সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনটি অব্যবহৃত গাড়ি গায়েবের জট খুলতে এবার মাঠে নেমেছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তিন সদস্যের গঠিত কমিটি। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার শাখা সিলেটের পরিচালক মতিউর রহমান, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মহসিন সিটি করপোরেশনে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
এ সময় তারা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়ি গায়েবের পর সাধারণ ডায়েরি দায়েরকারী সিটি করপোরেশনের উপ সহকারী প্রকৌশলী যান্ত্রিক (পরিবহন) জাবেরুল ইসলাম, করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানসহ পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি করপোরেশনে আসলে আমার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হয়। তারা যেসব তথ্য জানতে চেয়েছেন তাদেরকে নথিপত্রসহ সেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসময় তারা করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমরাও চাই এ ঘটনার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের শাস্তি হউক।’
তদন্ত কমিটির সদস্য সিলেট জেলা প্রশাসকের এডিএম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কমিটি করপোরেশনে গিয়ে মেয়র ও জিডি দায়েরকারীসহ কয়েকজনের বক্তব্য নিয়েছে। তদন্ত শেষ করতে আমাদের আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তাদের বক্তব্যগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা অনেকগুলো কাগজপত্রও দাখিল করেছেন তদন্ত কমিটির কাছে।’
এর আগে (২৯ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে পরিচালক স্থানীয় সরকার সিলেটের আহ্বায়ক, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে সদস্য এবং সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এর আগে, সোমবার (৩০ অক্টোবর) ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়ি গায়েব, থানায় জিডি’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ে। পরে বুধবার (১ নভেম্বর) ‘সিসিকের গাড়ি গায়েব: জিডি করে ভুলে যান কর্মকর্তা’ এবং শুক্রবার (৩ নভেম্বর) ‘সিসিকের গাড়ি গায়েব: অবশেষে জিডির তদন্তে নামলো পুলিশ’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে আরও দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে সাড়া পড়ে যায়।







