শাহজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.মুহম্মদ জাফর ইকবাল হত্যা চেষ্টা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হামলাকারী ফয়জুর হাসানের বন্ধু সোহাগ মিয়া (২৭)। রবিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সাত দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে হাজির করেন। এসময় সোহাগ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। জবানবন্দী শেষে আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ সিদ্দিকী তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোহাগের স্বীকারোক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ড.মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুরকে সোহাগ বিভিন্ন ধরনের ওয়াজ ও উগ্রবাদী ভিডিও মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করতো। পরে ফয়জুর মেমোরি কার্ড থেকে সোহাগের দেওয়া ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরণের ওয়াজ কপি করে নিজের কাছে রেখে পূনরায় মেমোরি কার্ড সোহাগকে ফেরত দিয়ে দিত।
তিনি আরও জানান, তাদের দুজনের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। প্রতি দিনই তাদের বিভিন্ন জায়গায় দেখা হতো। এছাড়াও আদালতে সোহাগ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে সেগুলো তদন্তের স্বার্থে বলা সম্ভব নয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। জবানবন্দী শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হামলাকারী ফয়জুর হাসান, তার বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান ও ভাই এনামুল হাসান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে সোহাগকে মিয়াকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য সাত দিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত রবিবার (১৮ মার্চ) রাতে জালালাবাদ থানা পুলিশ ফয়জুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগকে নগরের কালীবাড়ির নোয়াপাড়া ৪নং বাসা থেকে গ্রেফতার করে। সে ওই এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উমেদ নগর।








