সিলেটে জোড়া খুন: সন্দেহের তালিকায় গৃহকর্মীসহ ৪ জন

তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট
০২ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২০আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:১৮

সিলেটে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার সিলেট নগরীর খারপাড়া আবাসিক এলাকায় মা-ছেলের জোড়া খুনের ঘটনায় চার সন্দেহভাজনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এ ঘটনার সঙ্গে নিহত রোকেয়া বেগমের (৪৫) গৃহপরিচারিকা তানিয়াসহ চারজন জড়িত থাকতে পারে।  

স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি তানিয়ার (১৬) সঙ্গে পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। তানিয়া তার বাসায় প্রায় ৬ মাস ধরে কাজ করছিল। বাকবিতণ্ডার পর রোকেয়ার বাসা থেকে চলে যায় তানিয়া। এর ২/৩ দিন পর স্থানীয় যুবক সুমন ওরফে কাঞ্চা সুমন, একে পাপলু ও শিপনকে নিয়ে রোকেয়ার বাসায় যায় তানিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ওই যুবকদের কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিলেও কোনও লাভ হয়নি। পরে তারা রোকেয়াকে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানিয়ার পক্ষে থাকা ওই তিন যুবক রোকেয়াকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। স্থানীয়রা এ বিষয়ে জানলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পাপলু ও সুমন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

নিহত রোকেয়ার ভাই নগরীর শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার বোনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কিনা জানা নেই। তবে ১০-১৫ দিন আগে বাসার কাজের মেয়ে তানিয়ার সঙ্গে আমার বোনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তানিয়ার পক্ষ হয়ে কয়েকজন যুবক এসে বোনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যায়। বেশি বাড়াবাড়ি না করতে হুমকিও দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসা করার উদ্যোগ নিলেও কোনও লাভ হয়নি। এ বিষয়টি বোন আমাদের জানালে তাকে আমরা অন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরামর্শ দেই। কিন্তু এরই মধ্যে আমার বোনকে তারা হত্যা করে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, রোকেয়া বেগমের বাসার কাজের মেয়ে তানিয়াকে আটক করার পর এই হত্যার  জট খুলবে। সেজন্য পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে কিছু তথ্য ও কয়েকজনের নাম পেয়েছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের তদন্ত কাজ চলছে। তদন্তে বেশ অগ্রগতিও হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলেই আমাদের ধারণা। খুনিরা খুব সম্ভবত নিহতদের পরিচিত। অনেক সময় নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মা-ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে হত্যার কিছু উৎস পেয়েছে। তবে, এসব বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’

নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালি ১৫/এ নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচতলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রোকেয়া বেগম। রবিবার বাড়ির ভেতরে থাকা রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের লাশ উদ্ধার করে। রোকেয়া বেগমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার চকমখলায়। বর্তমানে রাইসাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। 

 

/এআর/এসটি/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি