দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ-১ আসনেও বইছে নির্বাচনি হাওয়া। অসংখ্য ছোট-বড় হাওর বেষ্টিত এ আসন ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার বৃহত্তম এ আসনে বড় দুই দল থেকেই রয়েছেন একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে গ্রুপিং। সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, গ্রুপিং নয়, ‘প্রতিযোগিতা’ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ জেলার বৃহত্তম নির্বাচনি এলাকা। এখানে রয়েছে রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর, বারিক টিলা, শহীদ সিরাজ লেক, ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পসহ বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর পর্যটন এলাকা। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত প্রান্তিক জনপদের বেশিরভাগ মানুষই কৃষি ও মৎসজীবী । বছরের ৬ থেকে ৮ মাস এখানকার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বেকার থাকে। আসনটির ধর্মপাশা উপজেলা ও মধ্যনগর থানা সদরের সঙ্গে নেই জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ।
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রফিকুল হক সুহেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল ও ড্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারিত হয়ে পড়েছে গ্রুপিং। দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সরব হয়েছেন। এবিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস বলেছেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি জয়ী হবেন।’
অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর কবির বলেছেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডের ফলে তৃনমূল জনগণ ও কর্মী সমর্থকরা অসন্তুষ্ট। তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা কঠিন হবে।
মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিংয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। তার ভাষ্য, ‘মনোনয়ন নিয়ে কোন গ্রুপিং নেই, তবে প্রতিযোগিতা রয়েছে। যারা দ্বিধাবিভক্তির কথা বলেন, তারা ব্যক্তিস্বার্থে নানান কথাই বলেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে অব্যশ্যই এলাকার জনগণ আমাকে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করবে বলে আমি আশা করি।’
জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, ‘দল যাকে নৌকা মার্কা দেবে তৃনমূল আওয়ামী লীগ তার পক্ষেই কাজ করবে।’
বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আনিসুল হক বলেছেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে কোন বিভেদ নেই। সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন। অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আসনটিতে বিএনপি রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হবে।’








