বাহুবলের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দুর্নীতির তদন্ত শুরু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:১৫আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৪

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাহুবল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাবুল কুমার দাসের বিরুদ্ধে প্রাইভেট প্র্যাকটিস, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে মূল পদবি ‘টিএইচও’ ব্যবহার, ভুল চিকিৎসা এবং ওষুধ কোম্পানির থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার এসব অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে ৩ সদস্যের কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমর্রত আছেন ডা. বাবুল কুমার দাস। তিন বছর আগে তাকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ টিএইচও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, বাহুবলে আসার পর রাতারাতি পরিবর্তন ঘটেছে তার ভাগ্যের। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অদৃশ্য আয়ে কিশোরগঞ্জে তার ভাইয়ের নামে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট হাসপাতাল।

এছাড়া ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেলেও তিনি থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) পূর্ণ পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। নিচ্ছেন বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা।

তার বিরুদ্ধে দেশের ২০টির বেশি ওষুধ কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ওষুধ লেখার শর্তে তিনি কোম্পানিগুলোর থেকে এ সুবিধা নেন। কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভাষায় তাকে দেওয়া এ সুবিধাকে বলা হয় ‘সম্মানি ভাতা’। এসব উৎকোচ ডা. বাবুল কখনো গ্রহণ করেন নগদে, আবার কখনো ব্যাংক চেকের মাধ্যমে। সম্প্রতি তার এমন একটি উৎকোচ গ্রহণের ‘চেক’-এর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ‘ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড’র ঢাকা তেজগাঁও ব্রাঞ্চের ২১৪৪৪৪২ নং চেকের মাধ্যমে তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে নগদ সুবিধা নেন বলে প্রচার পায়।

বাহুবলের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ঠিক মতো দায়িত্ব পালন ও রোগী না দেখাসহ ভুল চিকিৎসারও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে শুরু হয় তোলপাড়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে হবিগঞ্জ সদরের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল ও একই কার্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহ আলম।

ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, সিভিল সার্জন অফিসের সিদ্ধান্তে তাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যরা বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। ডা. বাবুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে কমিটি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানানতিনি।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. বাবুল কুমার দাস। তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এ ষড়যন্ত্র করছে।

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান