ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা নেই হবিগঞ্জ শিক্ষা অফিসে!

মোহাম্মদ নুর উদ্দিন, হবিগঞ্জ
২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩৫আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৪৮

  ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন হবিগঞ্জের আটটি উপজেলায় শতাধিক প্রাইমারি স্কুলের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনও কোনও ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়েই এসব ভবনে পাঠদান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের বাইরে ক্লাস করছে তারা। আবার অনেক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে যেকোনও সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জেলায় ১ হাজার ৫২টি প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে কতটি ঝুঁকিপূর্ণ,জরাজীর্ণ সে বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সঠিক কোনও তথ্য নেই। তবে আনুমানিক শতাধিক স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রেজ্জাক।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান,পরিত্যক্ত,জরাজীর্ণ ও ফাটলকৃত ভবনগুলো নির্মান ও পুনর্নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে লেখা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি আসলে যাতে করে ক্লাসের কোনও সমস্য না হয় সেজন্য স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আশা করি মন্ত্রণালয় থেকে পর্যায়ক্রমে ভবন মেরামত করে দেওয়া হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন সূত্রমতে গত ১১ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রাইমারি স্কুলগুলোর পরিত্যক্ত ভবন,ফাটল ও জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা দাখিল করতে বলা হয়। চিঠি পাওয়ার পরও কোনও উপজেলার শিক্ষা অফিস তালিকা তৈরি করেনি।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা সরকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর আমরা প্রত্যেকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনও তালিকা দিতে পারেনি।’

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন তিনি বলেন, জেলা অফিস থেকে ২০ মের মধ্যে তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই হয়তো একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে জরাজীর্ণ ও ফাটল ভবনের তালিক তৈরিকে কাজ চলছে।

বানিয়াচং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘বানিয়াচঙ্গে একাধিক স্কুলের ভবনে ফাটল ও জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক তালিকা প্রণয়ন করতে পারছি না। তালিকা তৈরির কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই  তালিকা করতে পারবো।’

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবন অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এ উপজেলার রায়েরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা বাইরে কিংবা বারান্দায় ক্লাস করে। একারণে বৃষ্টি আসলেই স্কুল ছুটি দিতে হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা নেই হবিগঞ্জ শিক্ষা অফিসে!

রায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনটি ব্যবহার করছি। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরির জন্য সয়েল টেস্টও করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়।’

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের