সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে ধান কেটে কৃষকদের উৎসাহ দিলেন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। শনিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার নীলপুর এলাকায় দেখার হাওরের কৃষক হাফিজুর রহমানের ক্ষেতের পাকাধান কেটে দেন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়র এমপি।
এসময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সমীর চন্দ বলেন, করোনা মহামারির সময়ে হাওরের ধান কাটতে যেন কোনও ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ কৃষকলীগের প্রতিটি সদস্য গতবারের মতো এবারও হাওর এলাকার কৃষকের পাশে রয়েছেন। যতদিন না হাওরের ধান কাটা শেষ হবে ততদিন কৃষকলীগের প্রতিটি সদস্য হাওরে ধান কাটার দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা হাওরের ধান কাটা কাজ শুরু করেছে।
তিনি কৃষকলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হাওরের শেষ ধানটি থাকা পর্যন্ত কৃষকের পাশে থাকতে আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর থেকে হাওরের ধান কাটার জন্য খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি করে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেওয়া হবে। যাতে আরও দ্রুত কৃষক হাওরের ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন।
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা হবে। কোনও সিন্ডিকেট থাকবে না। গেলবার কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, এবারও পাবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার এমপি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে সিন্ডিকেট করার কোনও সুযোগ নেই। সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রয়ে কৃষকরা সরাসরি কৃষিকার্ডের মাধ্যমে ধান দেবেন। প্রকৃত কৃষকরা যাতে গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন সে ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ড. হাবিুবর রহমান মোল্লা, দফতর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন, সহ অর্থ সম্পাদক রেজাউল হক রাসেল, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, জেলা ও উপজেলা কৃষকলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওরে ধান কাটার মেশিনের কোনও সংকট থাকবে না। সরকার হাওরের ধান কাটার জন্য সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের কোনও সিন্ডিকেট থাকবে না। ডিজিটাল পদ্বতিতে কৃষক সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন।
সরকারিভাবে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত হাওরের মোট ৬০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাওরে ও হাওরের বাইরের সব ধান কাটা শেষ হবে। চলতি বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।









