মহান বিজয় দিবসের ছুটিতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে বেরিয়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকরা আসতে হতে থাকেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব মিলে বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতেই সিলেটে ছুটে এসেছেন অনেকে। অতিরিক্ত পর্যটক আসায় জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরাণ (রহ.) ও গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজারসহ পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, টিলাগড় ইকোপার্ক, লাক্কাতুরা চা বাগানে পর্যটকটরা ভিড় করছেন।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাদাপাথরে ঘুরতে আসা কিশোরগঞ্জের সালমা আক্তার জানান, বুধবার রাতে পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সিলেটে এসেছেন। দরগাহ এলাকার একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করে ভোরে মাজার জিয়ারত করে সকাল ১০টায় সাদাপাথর আসেন।
পর্যটকরা সিলেটমুখী হওয়ায় হোটেল-মোটেল ও পর্যটন ব্যবসার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বেশ খুশি। তারা বলছেন, করোনার কারণে পর্যটন ব্যবসায় কয়েক মাসে যে লোকসান হয়েছে, দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ায় কিছুটা হলেও এবার সেটা কাটিয়ে উঠবেন।
নেত্রকোনা থেকে বন্ধুদের নিয়ে মাইক্রোবাসে মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে আসেন তায়েফ আহমদ। তিনি বলেন, সকালেই সিলেটে এসে পৌঁছেছি। এরপর শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেছি। জাফলং ও লালখাল ঘুরে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো।
সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের শোয়েব জানান, টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়ায় এক সপ্তাহ আগে থেকে সিলেটের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল বুকিং দিয়ে রাখেন পর্যটকরা। কোনও হোটেল মালিক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন না। সিলেটে অতিরিক্ত পর্যটক আসায় তাদের জায়গা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সিলেট জাফলং জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে জাফলং ও বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়ে। পর্যটকদের বিভিন্ন বিষয়য়ে সর্তক করছে পুলিশ। সেই সঙ্গে পর্যটকরা যাতে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও নজর রাখছে।
সিলেট অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, টানা তিন দিনের ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকরা ভিড় করছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটকদের নজরদারি করা হচ্ছে।
মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, পর্যটকদের ব্যাপারে আগে থেকে আমরা তৎপর। পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য নগরীর বিভিন্ন স্পটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। তাই নগরীর প্রতিটি মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে।
সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার জ্যোতর্তিয় সরকার জানান, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতে নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।








