সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনার মামলার আসামি বরখাস্ত এসআই আকবর ভূঁইয়াসহ ছয় জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশি প্রহরায় তাদেরকে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আমিরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা হলো—এসআই হাসান, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস।
এদিকে এই মামলার অন্যতম আসামি পলাতক আব্দুল্লাহ আল নোমানকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএ ফজল চৌধুরী জানান, পলাতক নোমানের মালামাল ক্রোক করতে হুলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে পায়নি। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: রায়হান হত্যা: ৫ দিন পর জানা গেলো ‘আত্মহত্যা’ করেছেন সাক্ষী
তিনি আরও জানান, পরবর্তী আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। আদালত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। কমপক্ষে দুটি পত্রিকায় নোমানের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হবে। এর মাধ্যমে তাকে অবহিত করা হবে যে, আদালতে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য শুরু হবে।
রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, পলাতক নোমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে নিয়ে আসা হোক। আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থা তিনি মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। চলতি বছরের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এক হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়, তাদের পাঁচজনই পুলিশ সদস্য।
অভিযুক্ত অপরজন আব্দুল্লাহ আল নোমান। তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। নোমানের বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক আবুল মোমেন রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষ চার্জশিটের বিপক্ষে নারাজি দেয়নি। আদালত পলাতক নোমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানাও জারি করেন।









