হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজিবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রবিবার (২৯ মে) দুপুর ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। এতে শাহজিবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে বড় দুটি ট্রান্সফরমারে আগুন জ্বলতে থাকে। তাৎক্ষণিক আগুনের কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা ছেয়ে যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বড় একটি ট্রান্সফরমার। আরেকটি ট্রান্সফরমার পুড়ে অকেজো হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল বলেন, ‘হঠাৎ করে আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। মানুষ আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বুঝতে পারেননি এটা কীসের ধোঁয়া।’
মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা সন্তোষ মল্লিক জানান, ছয়টি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে।
হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শিমুল মো. রফি বলেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে পরে বলা যাবে।
শাহজিবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রের তিনটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শাহজিবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে জানান, হবিগঞ্জের শাহজিবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টের গ্যাস টারবাইন-২ এর ইউনিট ট্রান্সফারে সকাল ৯টার পর হঠাৎ দুর্ঘটনায় আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সিলেট অঞ্চলে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণে বিদ্যুৎ বিতরণে কোনও প্রভাব পড়বে না। দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করায় ফায়ার সার্ভিসের সকল কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।









