দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ৪১ নেতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। সিসিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুবদলের একজন মেয়র প্রার্থী, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চার জনকে শোকজ করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বার বার নিষেধ করার পরেও সিসিক নির্বাচনে বিএনপির নেতারা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এতে দলের নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় কেন্দ্র থেকে প্রার্থীদের শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
শনিবার (৩ জুন) বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী পৃথকভাবে এসব শোকজ নোটিশ ইস্যু করেছেন। শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘১৫ বছর ধরে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ জনগণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়া দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে কারাভোগ করছেন। বিএনপি এই অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ দলের সদস্য হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করে দলীয় বড় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছেন। সুতরাং কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ দেখিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দলের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।’
শোকজ করা সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা হলেন- মেয়র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন। সাধারণ ১ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দ তৌফিকুল হাদী ও মুফতি কমর উদ্দিন কামু। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমান মিঠু। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. কামাল মিয়া। খালেদ আকবর চৌধুরী, আমিনুর রহমান খোকন ও শাহেদ সিরাজ। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ চৌধুরী শামীম। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সাঈদুর রহমান জুবের। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রহিম মতছির। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম মুনিম। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মুজিবুর রহমান। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ.বি.এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল ও সালমান চৌধুরী শাম্মী। ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বদরুল আজাদ রানা। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মামুনুর রহমান মামুন। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হুমায়ূন কবির সুহিন। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ ও সেলিম আহমদ রনি। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলী আব্বাস। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম মোস্তফা কামাল ও সাহেদ খান স্বপন। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে জাবেদ আমিন সেলিম, রাজু মিয়া ও সানর মিয়া। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আব্দুল মুকিত। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট হেদায়াত হোসেন তানভির ও দুলাল আহমদ। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে গউছ উদ্দিন পাখী ও দেলওয়ার হোসেন নাদিম। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে দিলওয়ার হোসেন জয়। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে উসমান হারুন পনির, ৩৯ ওয়ার্ডে জেলা ছাত্রদল সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হাছিব এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে সুমন আহমদ সিকদার।
এছাড়া সংরক্ষিত ২২, ২৩, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সালেহা কবির শেপী; ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রুহেনা বেগম মুক্তা ও অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন এবং ১৬, ১৭, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কামরুন নাহার রয়েছেন।








