রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্রে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যালের একটি ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনরা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতালের শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। কর্মবিরতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলেছে।
এদিকে ভাঙচুরের ঘটনায় সোমবার (২১ আগস্ট) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার রওশন হাবিব চার জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় পুলিশের হাতে আটক হওয়া রোগীর চার স্বজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালত পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, হাসপাতালে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় পুলিশ রোগীর চার স্বজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তাদেরকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার বিকালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনেরা হাসপাতালের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি দায়িত্বরত শিক্ষানবিস চিকিৎসকদের হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
মামলার আসামিরা হলেন মহানগরের মোগলাবাজার থানাধীন কুচাই নোয়াগাঁওয়ের শাহাব উদ্দিনে ছেলে জুবেল আহমদ (২৭), তার সহোদর জুয়েল আহমদ (২৩) ও সাবেল আহমদ (২১) এবং তাদের চাচা একই গ্রামের বাতির আলীর ছেলে আব্দুল মালেক (৫৪)।
জানা গেছে, গত রবিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমারয় কুচাই শ্রীরামপুরের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে হাসপাতালের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ওই ওয়ার্ডের শিক্ষানবিস চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি রুমে ভাঙচুর করেন। রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনরা ওয়ার্ডের গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, দরজা ও ইজিসি মেশিনসহ বেশকিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত মজুমদার বলেন, আমরা ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবো। হাসপাতালের সবাই কর্মবিরতিতে আছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রোগীর স্বজনদের হামলা ও ভাঙচুরের কারণে শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা কর্মবিরতি দিয়েছে। তাদেরকে কাজে ফেরানোর জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তারা রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন।








