সিলেটে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের গেটের ভেতরে হাফ প্যান্ট পরে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মাজার কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি সাইবোর্ড প্রথমবারের মতো মাজারের প্রধান ফটকে লাগানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) মাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশের মূল ফটক ও পেছনের প্রবেশমুখে কয়েকটি সাইনবোর্ড টানানো। এতে লেখা ‘হাফ প্যান্ট পরে মাজারের গেটের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ।’
এতে লেখা হয়, ‘বেশ কয়েকদিন থেকে লক্ষ্য করেছি, মাজারে হাফ প্যান্ট পরে অনেক দর্শনার্থী আসেন বলে জানিয়েছেন মাজারের মোতোয়াল্লি সরেকওম ফতেহ উল্লাহ আল আমান।’
মোতোয়াল্লি বলেন, ‘সারা বছরই শাহজালালের মাজার জিয়ারতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আসেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সিলেটে এলে একবার হলেও ঘুরে যান শাহজালালের মাজার। মাজারের আদব ও পবিত্রতা যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এতে অনেকেই সর্তক থাকবেন।’
মাজারে আসা কুমিল্লার ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘শাহজালালের মাজার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সিলেটে কাজের জন্য এলেই কোথাও যাই কিংবা না যাই তবে মাজারে নামাজ আদায় ও জিয়ারত করতে আসি মনের প্রশান্তির জন্য। মাজারের পবিত্রতা রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের হাফ প্যান্ট পরে না আসার জন্য যে আদেশ দিয়েছেন তা আমি মনে করি যথাযথ সিদ্ধান্ত।’
জানা যায়, সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনকাল ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালালের হাতে বিজিত হয় সিলেট অঞ্চল। ১৩৪০ সালে হযরত শাহজালাল মৃত্যুবরণ করলে তাকে সিলেট শহরের দরগাহ এলাকায় সমাহিত করা হয়। বর্তমানে মাজার এলাকায় শত শত জালালি কবুতর, পুকুরভর্তি গজার মাছ ছাড়াও শাহজালালের ব্যবহৃত তলোয়ার রক্ষিত আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এসব পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হযরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ দর্শন ও জিয়ারত। প্রতি শুক্রবার লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে দরগাহ এলাকা। বিশেষ করে জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের এতটাই ভিড় হয় যে, মসজিদ আঙিনা ছাড়িয়ে নামাজের কাতার বসে মূল সড়ক পর্যন্ত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা মাজার জিয়ারত করেন।








