রাত পোহালেই সিলেটের-৬ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণার সময় থাকলেও সিলেটে মূলত বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে প্রচারণা। এদিন পর্যন্ত প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা। লিফলেট বিতরণসহ দিয়েছেন নানা উন্নয়নের আশ্বাস। চেয়েছেন ভোট, দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রচারণা শেষে শুরু হয়েছে ক্ষণ গণণা।
রবিবার (০৭ জানুয়ারি) শুরু হবে ভোট উৎসব। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের নির্বাচন সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে দুটিতে দুই মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। এই দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনি উত্তাপ নেই বললেই চলে। বাকি চারটিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
সিলেটের ছয় আসনে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। আসনগুলোতে মোট ২৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৩১ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৫ ও নারী ১৩ লাখ ২২ হাজার ৯২৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে এক হাজার ১৩টি ও কক্ষ ছয় হাজার ছয়টি।
সিলেট-১ আসনে জয়ের অপেক্ষায় আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেন। এখানে পাঁচ প্রার্থী থাকলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ড. মোমেন।
বিশ্বনাথ আর ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। এখানে বিশ্বনাথ পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমানের প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় নৌকার প্রার্থী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান ছিলেন মূল আলোচনায়। একপ্রকার সংগ্রাম করে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ পান মুহিবুর। প্রতীক পাওয়ার পরই পাল্টে যায় চিত্র। বদলে গেছে হিসাব-নিকাশ। চমক দেখাতে পারেন মুহিবুর। এছাড়া বর্তমান এমপি গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মো. ইয়াহইয়া চৌধুরীসহ সাত জন লড়ছেন। ফলে এখানে শফিকুরের সঙ্গে মুহিবুর ও ইয়াহইয়ার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সিসিকের ছয়টি ওয়ার্ড, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। আসনটিতে রয়েছেন সাত প্রার্থী। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইহতেশামুল হক চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিকের ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।
ভোটাররা জানিয়েছেন, হাবিবুর রহমান উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকায় তৎপর ছিলেন। নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কাজের মূল্যায়ন হিসেবে আবারও জয়ী হতে পারেন। তবে ডা. ইহতেশামুল হক নির্বাচনি মাঠে নতুন হলেও তার রয়েছে ভোট ব্যাংক। ভোটের মাঠে দেখাতে পারেন চমক। পাশাপাশি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আতিকুর রহমানও ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
তিন উপজেলা নিয়ে সিলেট-৪ আসন গঠিত। এখানে জয়ের অপেক্ষায় আছেন ছয় বারের সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইমরান আহমদ। তার দুই জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ ও মানুষের ভোটে আবারও বহাল থাকতে পারেন। এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা। তার সঙ্গে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল হোসেন।
কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাত প্রার্থী থাকলেও স্বতন্ত্র হুছাম উদ্দিন আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী মাসুক উদ্দিন আহমদ ও স্বতন্ত্র জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আহমদ আল কবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
ভোটাররা জানিয়েছেন, নৌকার প্রার্থী মাসুক উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ আল কবির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন হুছাম উদ্দিন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সাধারণ মানুষ তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। বাকি দুই প্রার্থীকে টপকে চমক দেখাতে পারেন তিনি।
এছাড়া জেলাজুড়ে আলোচনায় রয়েছে সিলেট-৬ আসন। আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মুবিন চৌধুরী, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াইয়ের কথা বলেছেন ভোটাররা। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটের মাঠে রয়েছে নানা গুঞ্জন। চমক দেখিয়ে এমপি হতে পারেন শমসের মুবিন চৌধুরী। তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ। তবে প্রথমদিকে কোণঠাসা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নৌকার প্রার্থী নাহিদ। আবার দলীয় আস্থার প্রতিদান দিতে এমপি হতে চান। পাশাপাশি সরওয়ার হোসেনও জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। কারণ তার রয়েছে ভোট ব্যাংক। সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। ফলে তিনিও এগিয়ে আছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিনও জয়ের আশা করছেন। কারণ একাধিক প্রার্থী থাকায় দলের নেতাকর্মীদের ভোট পেতে পারেন তিনি। সেক্ষেত্রে ভোট তিন কিংবা চার ভাগ হয়ে গেলে এগিয়ে যেতে পারেন সেলিম।









