ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে হবিগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাট। ইতোমধ্যে দেশীয় পদ্ধতিতে লালনপালন করা পশু বাজারে তুলছেন খামারিরা। তবে ভারতীয় পশু প্রবেশ করার শঙ্কা ও গো-খাদ্যের দাম বাড়ার ফলে গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা।
সরেজমিন বিভিন্ন খামারে দেখা গেছে, হবিগঞ্জে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন পশুর হাটে ও খামারে পশু বিক্রি করছেন খামারিরা। মাধবপুরের আন্দিউরা গ্রামের পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্ম, নবীগঞ্জের এমবি অ্যাগ্রো ফার্ম, গ্রিন বাংলা অ্যাগ্রোসহ কয়েকটি খামারে কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শাহীওয়াল, নেপালি ও ফিজিয়ানসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের লাল-কালো-সাদা রঙের এসব একেকটি গরুর ওজন ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি পর্যন্ত।
স্বাস্থ্যসম্মত পরিচর্যার পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালনপালন করা হয়েছে। নিয়মিত খাবারের তালিকায় রয়েছে গমের ভুসি, খৈল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার।
দুই বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দেবপাড়া এলাকায় এমবি অ্যাগ্রো ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন আতাউর রহমান। গত বছর নানান সমস্যায় লোকসান গুনতে হয়েছে এই খামারিকে। এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ৮৪টি গরু স্বাস্থ্যসম্মত দেশীয় পদ্ধতিতে লালনপালন করেছেন।
খামারে গরু কিনতে এসে দিনারপুর কলেজের প্রভাষক মোশারফ মিটু বলেন, ‘এই খামারে শুনলাম দশীয় পদ্ধতিতে গরু লালনপালন করা হয়। এ জন্য এসেছি গরু কিনতে। হাটের ভিড় এড়াতে
নিরিবিলি পশু ক্রয় করার জন্য খামার একটি ভালো জায়গা। প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনের দায়িত্ব থাকে নিজের ওপরে। এ জন্য এখান থেকে আত্মীয়-স্বজনের জন্য চারটি ও নিজের জন্য একটি গরু কিনেছি।’
কামারগাঁও গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ‘অত্যন্ত ভালো পরিবেশ। দুটি গরু কিনেছি। আরও কেনার ইচ্ছে আছে। আত্মীয়-স্বজনকেও খামার থেকে গরু কেনার উৎসাহ দিচ্ছি।’
এমবি অ্যাগ্রোর পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, ভারতীয় পশু এলে খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবো। শুনেছি বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু ঢুকছে। গত এক বছরে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎসেবা বিঘ্নিত হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। ফলে ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা প্রদান ও গো-খাদ্যের দাম কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, হবিগঞ্জ জেলায় এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে এক লাখ, চাহিদা ৯০ হাজার। ফলে অন্য জেলায় গবাদিপশু সরবরাহ করা যাবে।
ঈদে ভারতীয় গরু প্রবেশের শঙ্কা নেই। ফলে খামারিরা লাভবান হবেন- জানান তিনি।









