হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় জ্বালানির তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার ১৫ ঘণ্টা পার হলেও শেষ হয়নি উদ্ধারকাজ। তবে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার ভাবে চলছে। দুর্ঘটনার কারণে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত ওয়াগন থেকে নির্গত হওয়া ডিজেল উৎসবমুখর পরিবেশে সংগ্রহ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি জানায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তারা ১০০০ লিটার জ্বালানিতে সংগ্রহ করেছে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল ডিজেলবাহী একটি ট্যাংকার ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে এলে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি অয়েল ট্যাংকারের বগি রেল লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এসময় একটি ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে খালের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনও দুমড়েমুচড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর-পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলো থেকে নির্গত ডিজেল পাশের খালে গিয়ে জমা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎসবমুখর পরিবেশে ফোম ব্যাবহার করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছেন। বর্তমান জ্বালানি তেলের দুমূল্যের বাজারে বিনা পয়সায় তেল সংগ্রহ করে অনেকটাই খুশি তারা।
তেল সংগ্রহ করা জসিম মিয়া জানান, এখন পর্যন্ত ৫০ লিটারের মতো জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছি। আল্লাহর রহমতে আরও করবো। তেলগুলো পানি দিয়ে মিশে যাচ্ছিল, তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে তেল সংগ্রহ করার জন্য বলেছেন। আমরা ফোম ব্যবহার করে তেল সংগ্রহ করছি।
স্থানীয় নারী বাসিন্দা, রত্না বেগম বলেন, আল্লাহ দিছে তাই তেল সংগ্রহ করতাছি। এই তেল সংগ্রহ না করলে পানিতে গিয়ে পানি নষ্ট হতো। তাই আমরা এলাকার লোকজন সংগ্রহ করছি।
এলাকার অপর বাসিন্দা নূর মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে। তেলগুলো পানিতে ভেসে যাচ্ছিল। পানি থেকে সংগ্রহ করার পরে কিছুটা হলেও কাজে আসবে।
বিজিবির হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবি ১০০০ লিটার জ্বালানি তেল ডিজেল সংগ্রহ করেছে। সেই তেলগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকায়, এ বিষয়ে স্থানীয়দের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ হয়তো সংগ্রহ করছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ যেন না করতে পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আজমপুর স্টেশনে অবস্থান করছে। এসব ট্রেনের শত শত যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার কাজ চলছে। ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে বিকাল গড়িয়ে যেতে পারে।









