প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পরই সোমবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত এডিএম পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাত ৯টার দিকে বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন। তিনি বলেন, ‘সোমবার রাতেই ডিসি মহোদয় দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। তবে তিনি সিলেটেই অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার সিলেট ছাড়তে পারেন। তিনি চলে যাওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।’
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার দুপুরে ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রথমবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। প্রকাশ্যে পরিচালিত ওই গণনায় মাজারে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স থেকে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নগদ অর্থ এবং সাত আনা সোনা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। সম্প্রতি এই হিসাব খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এ অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, সোমবার শাহজালালের মাজারে জোহরের নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক। নামাজ শেষে বেলা ২টার দিকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিলগালাকৃত ডেগ ও জেলা প্রশাসনের স্থাপনকৃত দানবাক্সের তালা খোলা হয়। পরে ডেগ ও দানবাক্স থেকে টাকা বের করা হয়। পরে সেগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। দানের টাকা গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে যেমন প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে, তেমনি তৈরি হয় বিতর্কও। এরই মধ্যে রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।







