এবার বাহুবলে এনসিপির নেতাদের আটকে দিলো পুলিশ, রাস্তায় বসে পড়লেন তারা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৪আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫২

মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের বাধা উপেক্ষা করে এনসিপির গাড়িবহর রওনা দিলেও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে তাদের আবার আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) বাহুবলের মুছাই নামক এলাকায় তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় এনসিপির নেতারা পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসে পড়েন। তারা এক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বসে আছেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, ‌‌‘হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে শ্রীমঙ্গলে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে দিয়েছিল পুলিশ। এ সময় ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে এবং ব্যারিকেড দেওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা দেন নেতারা। ব্যারিকেডের সামনে পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগবিতণ্ডা শেষে বিকাল ৫টার দিকে রওনা হন। এরপর থেকে বাহুবলে আটকে দেওয়া হয়।

শ্রীমঙ্গলের বাধা উপেক্ষা করে এনসিপির গাড়িবহর রওনা দিলেও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশ মুখে তাদের ফের আটকে দিয়েছে পুলিশ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চা কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় সড়ক বন্ধ করে তাদের গাড়ি আটকে দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা গেছে। পুলিশও তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় হাসনাত আবদুল্লাহকে। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনি যদি পারেন আমাদের সিকিউরিটি দেবেন। আর যদি না পারেন তাহলে আমরা দায়িত্ব নিয়ে চলে যাবো। কোন আইনে আপনি আমাদের বাধা দিচ্ছেন? এ সময় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কথা জানান। জবাবে হাসনাত বলেন, ‌নিরাপত্তার থ্রেট কারা? আপনি তাদের না ধরে আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন। আপনি হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা দিয়ে শ্রীমঙ্গলে রাস্তা আটকাচ্ছেন। আপনি বেআইনি কাজ করছেন।’

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপনারা এই সীমানা পার হলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। পরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন এনসিপির নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাল ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু প্রমুখ। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে চা কন্যা ভাস্কর্য এলকায় শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে পুলিশ ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। 

মৌলভীবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদেরকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে চলে যান তারা।’

ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে এবং ব্যারিকেড দেওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে

এর আগে মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন। এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

/এএম/এমওএফ/ 
সম্পর্কিত
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যে নির্দেশনা দিলো পুলিশ সদর দফতর
পুলিশের সঙ্গে হাসনাত-সারজিস-নাসীরুদ্দীনের ধাক্কাধাক্কি
পুলিশের বাধা ও ট্রাক সরিয়ে হবিগঞ্জে যাচ্ছেন এনসিপির নেতারা
সর্বশেষ খবর
যে কারণে চীনা হিউম্যানয়েড রোবট নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ 
বোয়িং-এয়ারবাসকে টেক্কা দিতে অভিনব উড়োজাহাজ বানাচ্ছে জেটজিরো
৪ দিন আগে কীভাবে দেশে ঢুকেছেন দুর্ধর্ষ ইমন, সাজ্জাদ ও রায়হান কোথায়?
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
এক ক্লিকেই করদাতার সব তথ্য, এনবিআরকে নতুন রোডম্যাপ দিলো আইএমএফ