ভূমিকম্পে সিলেট নার্সিং কলেজ ছাত্রী হোস্টেলে শতাধিক ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় ছাত্রীদের অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সিলেট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পী চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হোস্টেলে অবস্থানকারী ৩৭৫ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৫০ জনকে হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২২৫ জনকে কলেজের অন্য একটি হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার ও কলেজ বিল্ডিংয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিএসসি নার্সিং ফাইনাল পরীক্ষা চলমান থাকায় তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী ১১ মে পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়তে পারেন: সেই রিজওয়ানকে বহিষ্কার করলো বিসিবি
আলাপকালে হোস্টেলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার রাতে ভূমিকম্পে একটি ছাত্রী নিবাসের রুম,বাথ রুম ও বারান্দাসহ শতাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে হোস্টেল থেকে বের হতে গিয়ে শিলা, ববি দাস, শিল্পী নামে তিন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যান। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ফাটল দেখা দেওয়ায় রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আব্দুস ছবুর মিঞা, নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পী চক্রবর্তী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন। ওই সময় তারা ওই ফাটলে তেমন কোনও সমস্যা হবে না জানিয়ে ছাত্রীদের হোস্টেলে থাকার পরামর্শ দেন। তবে কেউ যদি অন্য ভবনে বা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থাকতে চান,তবে সেখানে যেতে পারে বলে তারা জানান।
সরেজমিন দেখা গেছে, হোস্টেলে ফাটলের পাশাপাশি নিচতলার বারান্দা অনেকখানি ‘দেবে’ গেছে। নিচতলার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি রুমের দেয়ালে বড় ধরণের ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এটা গত বুধবারের ভূমিকম্পে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই রুমের ছাত্রীরা। শুধু নিচ তলায় নয়, ওই হোস্টেলের অধিকাংশ রুমেই ফাটল রয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: ফায়ারম্যানদের চিকিৎসায় তৈরি হচ্ছে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল
স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভানেত্রী হাসনা আলম অমি ও সাধারণ সম্পাদিকা শায়লা আলম বলেন,‘পরীক্ষা থাকায় অনেক ছাত্রীকে বাধ্য হয়ে হোস্টেলে থাকতে হচ্ছে। এখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভূমিকম্প আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাবেদ হোসেন মো. তারেক জানান, তাদের একটি টিম শুক্রবার হোস্টেলটি পরিদর্শন করেছে। আমাদের টিম ভবনটির ছবি তুলে এনেছে। তবে, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা সেটি গণপূর্ত বিভাগই বলতে পারবে।
কলেজ অধ্যক্ষ শিল্পী চক্রবর্তী জানান, আমরা সামগ্রিক বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগকে জানিয়েছি।
/জেবি/








