‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপে ৩ বছর পর মিললো যুবকের কঙ্কাল

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বত আলী (রুসমত আলীর ছেলে) নামের এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি ভাইরাল ফোনালাপের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার রামনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) এবং ইয়াছিন মিয়া (২৪)। 

যেভাবে মিললো হত্যাকাণ্ডের সূত্র 

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। ওই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে সময় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান।

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তিন বছর পর সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়ার সময় অভিযুক্ত শাহ আলমের একটি ফোনালাপ ডিবির হাতে আসে। ওই ফোনালাপে শাহ আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ এই অডিও রেকর্ডটিই তদন্তে নতুন মোড় আনে। এর ভিত্তিতে গত শুক্রবার রামনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শাহ আলমসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও কারণ 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দেন। তারা জানান, শাহ আলমের ভাতিজির সঙ্গে মহব্বতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে মহব্বত শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহানারা বেগম কৌশলে মহব্বতকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর বাড়িতে লোকজনের আগমন টের পেয়ে তাকে একটি ওয়ার্ডরোবের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তার মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় আসামিরা। পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সেই সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, উদ্ধার করা কঙ্কালটি বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত মহব্বতের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছিল এবং স্থানীয় কিছু মাদক কারবারির সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল। তবে নিখোঁজ মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হলো নিখোঁজের দীর্ঘ তিন বছর পর।

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি: লুটপাট-ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি: লুটপাট-ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
টিভিতে আজকের খেলা (১ নভেম্বর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১ নভেম্বর, ২০২৬)
‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপে ৩ বছর পর মিললো যুবকের কঙ্কাল
‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপে ৩ বছর পর মিললো যুবকের কঙ্কাল
সর্বাধিক পঠিত
এইচএসসিতে সাফা, ফারিণ থেকে হিমি: কে কত পেয়েছিলেন
এইচএসসিতে সাফা, ফারিণ থেকে হিমি: কে কত পেয়েছিলেন
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক’, সেই এএসপি বাধ্যতামূলক অবসরে
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক’, সেই এএসপি বাধ্যতামূলক অবসরে
লাগেজ কাটা-চুরি বন্ধে নতুন ব্যবস্থা: কতটা বদলালো শাহজালাল বিমানবন্দর
লাগেজ কাটা-চুরি বন্ধে নতুন ব্যবস্থা: কতটা বদলালো শাহজালাল বিমানবন্দর
পাসের হারে শীর্ষে কোন বোর্ড, তালানিতে কোনটি
পাসের হারে শীর্ষে কোন বোর্ড, তালানিতে কোনটি
যে দুই বিষয়ে বেশি ফেল করায় খারাপ হয়েছে ফল 
যে দুই বিষয়ে বেশি ফেল করায় খারাপ হয়েছে ফল