X
শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের বেতন কোন পথে?

আপডেট : ২৯ মে ২০২১, ১৯:০১

দেশের তিন শতাধিক বেসরকারি অনার্স কলেজের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নামমাত্র বেতনে কিংবা বিনা বেতনে চাকরি করছেন। করোনার সময় শিক্ষকদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ায় তারা সরকারের কাছ থেকে বেতন পেতে সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু সরকার বেতন দেবে নাকি শর্ত মেনে কলেজগুলোর কর্তৃপক্ষ বেতন দেবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে।

বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স কলেজের শিক্ষকরা জানান, কমিটির মাধ্যমে তারা বেতন চান না। সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে অথবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেতনের অংশ পেতে চান তারা। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ বা গভর্নিং বড়ির মাধ্যমে দিলে ঠিকভাবে বেতন-ভাতা পাবেন না তারা। যে কারণে অনার্স-মাস্টার্সের মান কমেছে, চালু থাকা অনার্স-মাস্টার্স কোর্স বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী কারিগরি ডিপ্লোমা বা শর্ট কোর্স চালু করলে সেটাও মানহীন হয়ে পড়বে শিক্ষকরা বেতন না পাওয়ায়।

অন্যদিকে বেসরকারি কলেজে চলমান অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষক কলেজের জনবল কাঠামোর বাইরে থাকায় বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবে না। বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষকদের বেতনের নিশ্চয়তার ভাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় আন্তরিক না হলে তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর সব কলেজে রাখা হবে না। যেসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তর রাখা হবে না, সেসব কলেজে ডিগ্রি পর্যন্ত রেখে কারিগরি ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন শর্ট কোর্স চালু করা হবে। শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা যেভাবে মতামত দেবে সেটা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানতে চাইলে মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকরা বেতন না পেলে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা সে বিষয়টিতে অবশ্যই গুরুত্ব দেবো।’

অনার্স-মাস্টার্স কোর্স তুলে দেওয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠন করা কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অ্যাক্টিং ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রথম একটি সভা হয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ এসেছে। তবে এখনও কোন কলেজ থাকবে কোন কলেজ থাকবে না তা এখনও নিশ্চিত নয়। এসব বিষয়ে শিক্ষাবিদদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে বেশ কয়েকটি মিটিং করতে হবে। বিষয়টি কিছুটা সময় সাপেক্ষ।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ডিগ্রিস্তর পর্যন্ত পরিচালিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোয় ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্সের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের বিষয় অনুমোদন নেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কলেজের টিউশন ফি থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এই পর্যায়ে কলেজগুলোর শিক্ষকদের পদ  জনবল কাঠামোতে স্থান পায়নি। ফলে সরকারি বিধি-বিধানের আলোকে এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হন তারা। এভাবে দীর্ঘ প্রায় ২৯ বছর ধরে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আন্দোলনের এক পর্যায়ে এবং অনার্স-মাস্টার্স কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মানসম্মত কলেজেগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স রেখে বাকি কলেজগুলোতে ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন ধরনের শর্ট কোর্স চালুর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিতে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিকেও রাখা হয়।

কমিটি কাজ শুরু করেই জানতে পারে বেশিরভাগ কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত দুরবস্থার চিত্র।  জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অ্যাক্টিং ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকরা বেতন পাবেন না তা কীভাবে হতে পারে। শিক্ষকরা বেতন না পেলে কোনও শিক্ষকের কাছ থেকে ভালো পাঠদান আশা করা কী সম্ভব? কীভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব? সে কারণে আমরা সবাই মিলে অনুধাবন করেছি অনার্স-মাস্টার্স স্তর সীমিত করতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কিছুটা সীমিত করে ভালোভাবে ডিগ্রি পর্যন্ত করিয়ে তাদের কারিগরি ডিপ্লোমা বা বিভিন্ন শর্টকোর্স চালু করা যেতে পারে। শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তরিক। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া তো সরকারি অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী কমিটিতে যিনি প্রধান হিসেবে আসবেন তিনি শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সুপারিশ সরকারের কাছে দিতে পারবেন।’

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা জনবল কাঠামো সংশোধন করে এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি।  শিগগিরই আবার কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছি। ’

মিল্টন মণ্ডল আরও বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষকরা বেতন নিতে চান না, কারণ বিগত সময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারেনি। ২৯ বছর ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সামান্য অর্থ দিচ্ছেন।  কোনও কোনও কলেজ কিছু বেতন দিলেও বেশিরভাগ কলেজ তা দেন না। করোনার সময় শিক্ষকরা বিনা বেতনে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দেবে কিনা সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের সরকারিভাবে বেতন নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষকদের আরেকটি সংগঠন ‘বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন’কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এমপিওভুক্ত না হওয়ায় উচ্চশিক্ষার শিক্ষক হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন করা হয় না। কয়েকটি কলেজ ছাড়া সব কলেজেই বেতন-ভাতা পুরোপুরি দেওয়া হয় না। বেশিরভাগ কলেজে বেতন না দিয়ে সামান্য সম্মানী দেওয়া হয়।  করোনার সময় তাও দেওয়া হয়নি। সে কারণেই বিধিসম্মতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মরত শিক্ষকদের এখন এমপিওভুক্ত করে মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি দিতে হবে।’

/এমআর/
সম্পর্কিত
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
‘ভূমি অধিগ্রহণে আমার বা আমার পরিবারের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই’
‘ভূমি অধিগ্রহণে আমার বা আমার পরিবারের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই’
শাবি ভিসিকে সরানো হবে কিনা আচার্যের বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শাবি ভিসিকে সরানো হবে কিনা আচার্যের বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা
রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি
‘ভূমি অধিগ্রহণে আমার বা আমার পরিবারের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই’
‘ভূমি অধিগ্রহণে আমার বা আমার পরিবারের লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই’
শাবি ভিসিকে সরানো হবে কিনা আচার্যের বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শাবি ভিসিকে সরানো হবে কিনা আচার্যের বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠন ও নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠন ও নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ
© 2022 Bangla Tribune