দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) সুপারিশ করার ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে সুপারিশের ক্ষমতা দিতে একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২) মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে যেভাবে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, সেভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে। আগে এসব পদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি নিয়োগ দিতো। তাতে কমিটি নিজেদের সুবিধা আদায় করে অযোগ্য লোক নিয়োগ দিতো। এনটিআরসিএ-এর সুপারিশে যোগ্য প্রার্থীকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিন থেকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। পরিচালনা কমিটি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে অর্থ-বাণিজ্য করে, এমন অভিযোগ উঠেছে বারবার। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও এসেছে মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে। এমন প্রেক্ষাপটে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং অধ্যক্ষ নিয়োগ এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিশ্চিতের দাবি অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষকদের।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগ নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এসব প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতম প্রার্থী বাছাই পদ্ধতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া কী হবে তা ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগ থাকছে বলেও জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ-২) মো. মিজানুর রহমানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। জানতে চাইলে মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ৭/৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দীর্ঘদিন থেকে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম নামের একটি সংগঠন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও তা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি অযোগ্য সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় টাকা নিয়ে। এই দুর্নীতি বন্ধ করা দরকার। আমরা চাই যেভাবে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়, সেভাবে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হোক।’









