দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ধারাবাহিক পেশাগত বিকাশ নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মিরপুরের প্রাইমারি টিচার্স’ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ডিপিএড পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ইউনেস্কো বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার শিক্ষণ-শেখার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য জাতীয় আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা, প্রযুক্তির শিক্ষণগত ব্যবহার, নৈতিক ও দায়িত্বশীল এআই প্রয়োগ এবং পেশাগত অনুশীলনের বিভিন্ন দক্ষতাক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কর্মসূচির কার্যকারিতা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মিজ শাহিনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ শাহানা সারমিন এবং ইউনেস্কো ঢাকার প্রোগ্রাম অফিসার মিজ শিরীন আক্তার। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।
বিশেষ অতিথিরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রস্তুতি ও পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ ভবিষ্যৎ শিক্ষক শিক্ষা নীতি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে বলে তারা মত দেন।
কর্মশালায় মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষা গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।








