কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭০তম আসরের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’র জিতেছে সুইডিশ পরিচালক রুবেন অস্টলুন্ডের ‘দ্য স্কয়ার’। তবে গ্রাঁ প্রিঁ পাওয়া রবিন ক্যাম্পিলোর ‘১২০ বিটস পার মিনিট’কে স্বর্ণপাম দিতে চেয়েছিলেন প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের সভাপতি পেদ্রো আলমোদোভার। স্প্যানিশ এই চলচ্চিত্রকার নিজেই এ কথা স্বীকার করেছেন।
ফরাসি ছবি ‘১২০ বিটস পার মিনিট’-এ বলা হয়েছে এইডস সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় অ্যাক্ট-আপ গ্রুপের কর্মীদের কথা, যারা আশি ও নব্বই দশকে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে সরকারি সহযোগিতার ঘাটতি।
গত ২৮ মে রাতে পালে দো ফেস্টিভাল ভবনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ‘১২০ বিটস পার মিনিট’ নিয়ে আলোচনায় এর প্রতি ভালোলাগা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পেদ্রো আলমোদোভার। তিনি বলেন, ‘তারাই সত্যিকারের নায়ক, যাদের সহযোগিতায় অনেক মানুষ প্রাণে বেঁচেছেন।’ তখন তার চোখের কোণে দেখা গেছে জল।
‘১২০ বিটস পার মিনিট’কে পাম দ’র দিতে না পারায় অনুতপ্ত মনে হয়েছে পেদ্রো আলমোদোভারকে। তিনি বলেন, ‘এবারের বিচারকরা ছিলেন খুব স্বাধীন। বলতে পারেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি ছিলাম জুরি প্যানেলের নবম সদস্য।’
৬৭ বছর বয়সী এই পরিচালক আরও বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর প্রতিটি দৃশ্য আমাকে উদ্দীপ্ত করেছে। কানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ক্যাম্পিলোর ছবিটিকে পছন্দ করেছে। আমি নিশ্চিত, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরও সাড়া ফেলবে এটি। ক্যাম্পিলো এমন বীরদের গল্প বলেছেন যাদের সুবাদে বেঁচে গেছেন অনেকে। তাদের দিকে আমাদের মনোযোগ নিয়ে গেছেন তিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন প্রতিযোগিতা বিভাগের অন্য আট বিচারক মার্কিন অভিনেতা উইল স্মিথ ও অভিনেত্রী জেসিকা চ্যাস্টেইন, চীনা অভিনেত্রী ফ্যান বিংবিং, ইতালিয়ান পরিচালক পাওলো সরেন্তিনো, জার্মান নারী পরিচালক মারেন আদে, ফরাসি অভিনেত্রী-লেখিকা আনিয়েস জাউই, দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্রকার পার্ক চ্যান-উক ও অস্কারজয়ী ফরাসি সংগীত পরিচালক গ্যাব্রিয়েল জারেদ।
ভিডিও-স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সের দুটি ছবি (ওকজা, দ্য মেয়ারোউৎজ স্টোরি) প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকলেও ফিরেছে শুন্য হাত। যদিও এটা অবধারিতই ছিল! কারণ ১৭ মে উৎসবের উদ্বোধনী দিনেই পেদ্রো আলমোদোভার বলে দিয়েছিলেন, কোনও ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পেলে সেটা পাম দ’র পেতে পারে না।
/জেএইচ/এমএম/








