হেনা ইসলাম। দেশের অন্যতম গীতিকবি। বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের শিল্পীদের প্রাণের গীতিকার।
মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে শত শত গান এসেছে তার কলম বেয়ে। কখনও রণাঙ্গনের দ্রোহের গান, কখনও প্রেমের গান। একটা সময়ে বেতার, ক্যাম্পাসে ঘুরেফিরে গাওয়া হতো এই গীতিকার-মুক্তিযোদ্ধার গান। তবে তার কোনোটাই বই আকারে সংরক্ষণ করা হয়নি। এই গীতিকবির ২০তম প্রয়াণ দিবসে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর উদ্যোগ নেন মেয়ে সাবেরী শবনম হেমা। প্রকাশ করলেন গীতিকবিতার বই ‘চাইনে ফুলের মালা’।
আজ (২১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের মিলনায়তনে উন্মোচন করা হয় গ্রন্থটির মোড়ক। এটি করেন আয়োজনের প্রধান অতিথি অভিনেতা ও সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর।
সেখানেই ব্যান্ড তারকা নকীব খান জানালেন আয়োজনটি ঘিরে মজার কিছু তথ্য। এই তারকা বলেন, ‘অনেক জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা এই গীতিকবি। কিন্তু তার গান সংরক্ষণের উদ্যোগ কেউ নেয়নি। তার মেয়ে হেমা থাকে আমেরিকায়। সে-ই ফেসবুকের মাধ্যমে বাবার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তারপর সবার কাছে থাকা গানগুলো সংগ্রহ করে এই বইটি প্রকাশ করা হলো’
এতে সবচেয়ে বেশি গান সংগ্রহ ও বই সম্পাদনার কাজটি করেন হেনা ইসলামের বাল্যবন্ধু ও চট্টগ্রামের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফজলুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘হেমা যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা আসলে আমাদের ব্যর্থতা মোচনের কাজ। এটা আমাদেরই করার উচিত ছিল। কিন্তু আমরা, বন্ধুরা তা পারিনি। এই বইয়ের মাধ্যমে আমাদের আক্ষেপও দূর হলো।’
আয়োজনটি দুটি পর্বে সাজানো হয়েছিল। প্রথম ভাগে ছিল প্রয়াত এ গীতিকবির বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণ ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। দ্বিতীয় পর্বে সংগীতসন্ধ্যা।
সংস্কৃতি আয়োজন শুরুর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘‘আমার খুব কাছের মানুষ নকীব খান যখন গীতিকবি হেনা ইসলাম প্রসঙ্গে বলেন, আমি চিনতে পারিনি। পরে যখন তার দুটো গানের কথা বললেন, তখন আমি বলি, ‘আরে আমি তো তাকে চিনি।’ এই যে চিনতে না পারাটা হলো আমাদের দেশের প্রচলিত কিছু জটিলতা। আমি অনেক শিল্পীকেই দেখেছি, একের পর এক গান গেয়ে যান, কিন্তু গানের যে স্রষ্টা সেই গীতিকার ও সুরকারের নাম বলেন না। মিডিয়া অন্যদের ফলাও করলেও তাদের ওপর ফোকাস সেভাবে থাকে না। এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের নাম হারিয়ে যায়। গান সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ধারণ করা। হেনা ইসলামের গান আমাদের ধারণ করতে হবে।’
স্মরণ অনুষ্ঠানে আরও কথা বলেন নকীব খানের বড় ভাই, একসময়ের সংগীত জগতের খুব চেনা মানুষ সুরকার-গীতিকার জালাল উদ্দিন খান জিল্লু, খ্যাতনামা গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণ, হেনা ইসলামের ছোট বোন হাসনিনা বেগমসহ অনেকে।
হাসনিনা বেগম জানান, গীতিকবিতার বই ‘চাইনে ফুলের মালা’ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেওয়া হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানকে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগের আয়োজনে পরিবেশন করা হয় হেনা ইসলামের লেখা সব গান। নকীব খানের পরিচালনায় এতে গান গেয়েছেন সামিনা চৌধুরী, কিশোর, হৈমন্তী রক্ষিত দাশ, রঞ্জন চৌধুরী, হেমাসহ অনেকে।
গানগুলোর মধ্যে আছে ‘রূপ ঝলমল রূপসী বাংলা’, ‘আমার সাজানো বাসর গেছে ভেঙে’, ‘সুখে আছো’, ‘দিন যায় রাত যায় কী করে’, ‘চাঁদ এসে উঁকি দিয়ে যায়’ ইত্যাদি।
পুরো অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম মিউজিসিয়ানস ক্লাব-এর সদস্যরা।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন




