দেশীয় চলচ্চিত্রের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু ও নির্মল চলচ্চিত্র আন্দোলনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে চলেছে। চলচ্চিত্রের সেই গুরুত্ব অনুধাবন করেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ১৮-২৫ জুন ৮ দিনব্যাপী ‘তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১’ আয়োজন করেছে।
উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার ‘হীরালাল সেন’কে এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়। আর পুরো আয়োজনটি হয় অন্তর্জালে।
একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সারাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০টি চলচ্চিত্র থেকে বাছাই করে ১১৯টি চলচ্চিত্র (৮১টি কাহিনি চলচ্চিত্র ও ৩৮টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র) এই উৎসবে প্রদর্শনী হয়।
উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৭টি বিভাগে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বিশেষ জুরি পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ও শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় পুরস্কার দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীকে চেয়ারম্যান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি জুরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গবেষক ফরিদুর রহমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিদুর রহমান অঞ্জন ও অমিতাভ রেজা চৌধুরী এবং একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।
স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৭টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে । শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১ লাখ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ১ লাখ এবং বিশেষ জুরি পুরস্কার ৫০ হাজার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে।
২৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব ২০২১’ এর ভার্চুয়াল সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রকার সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, বাংলাদেশ প্রামাণ্যচিত্র পর্ষদ-এর সভাপতি ফরিদুর রহমান, সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমি নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।
উৎসবের চলচ্চিত্র সিলেকশন কমিটির সদস্যরা হলেন চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ, নির্মাতা সাজ্জাদ জহির, নির্মাতা ও চিত্রগ্রাহক রাকিবুল হাসান, চলচ্চিত্র সমালোচক ও চিত্রনাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতি এবং শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সহকারী পরিচালক চাকলাদার মোস্তাফা আল মাস্উদ।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে নানামুখী কাজ করে চলছে। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে দু’বার ৬৪টি জেলায় একযোগে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’ আয়োজন, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ৬৪টি জেলায় ‘বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব’ আয়োজন, ২০১৭ সালে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় ‘বাংলাদেশ শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’ আয়োজন করা হয়। এছাড়া ৬৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ফিল্ম সোসাইটি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।





