উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে দুনিয়াজুড়ে। গান ভালোবাসেন, অথচ এই শিল্পীকে বাসেন না বা চেনেন না- তেমন শ্রোতা এই জগতে পাওয়া মুশকিল।
বাংলা তো বটেই, বাংলাদেশের সিনেমাতেও গেয়েছেন এই কিংবদন্তি। তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো এই দেশের শিল্পীদের। সেই সূত্রেই এই কিংবদন্তির সংস্পর্শে যাওয়া হয়েছে দেশের তরুণ কণ্ঠশিল্পী আলিফ আলাউদ্দীনের।
লতার মৃত্যুর খবরে স্মৃতিকাতর এই শিল্পী তুলে ধরে অসাধারণ এক স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘৯০/৯১ সালের কথা, কলকাতার ৪০০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠান। কলকাতা স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা দেয়া হয় শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা আন্টি, ভূপেন হাজারিকা, আব্বু (আলাউদ্দীন আলী)সহ কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরকে। মনে আছে আমরা উঠেছিলাম গ্র্যান্ড ওবেরয় হোটেলে। লতা মঙ্গেশকরের সাথে আমার সংগীতের চেনা জানা মা-খালাদের মাধ্যমে। একই হোটেলে আম্মু (কণ্ঠশিল্পী সালমা সুলতানা) আর লতাজি আছেন, এটা চিন্তা করেই আম্মুর চোখ মুখ জ্বল জ্বল করছিল।’
আলিফ আরও বলেন, ‘‘তারপর আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, রুনা আন্টি আমাদের নিয়ে যাবেন কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকরের রুমে। লিফটে আম্মু রুনা আন্টিকে বললেন ‘রুনা আপা আমার খুব নার্ভাস লাগছে’। রুনা আন্টি হাসলেন, বললেন ‘it’s okay’। ওনার হোটেল সুইট রুমে ঢুকে বসলাম। উনি রুম থেকে বের হতেই সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। কেমন যেন দ্যুতিময় তিনি। কিছুক্ষণ কথা, তারপর ছবি তোলার পালা। কিংবদন্তি নিজেই তার পাশে আমাকে আদর করে বসালেন, ছবি তুললেন। তানি লায়লা (রুনা আন্টির কন্যা) সেও ছবি তুললো।
এবারে মায়ের ছবি তোলার পালা, লতাজি উঠে দাঁড়াতে যাচ্ছেন, আম্মু তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন উনাকে উঠতে দিলেন না। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, কি অদ্ভুত শ্রদ্ধাবোধ। এটা আমার আব্বু-আম্মু দুজনের মধ্যেই ছিল।’
আলিফ আরও বলেন, ‘আজ ওনার (লতা মঙ্গেশকর) চলে যাওয়াটা আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি নিয়ে চলে যাওয়ার মতো লাগছে। ছোটবেলায় দুপুরের ভাত খেয়ে মার সাথে শুয়ে শুয়ে লতাজির গান শোনা ছিল প্রায় প্রতিদিনের রুটিন। ভালো থাকবেন হে কিংবদন্তি। ধন্যবাদ এই স্মৃতিগুলোর জন্যে। ভালো থেকো মা।’
৭০-৮০ দশকের নন্দিত নজরুলসংগীতশিল্পী সালমা সুলতানা। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ২০২০ সালের ৯ আগস্ট মারা যান কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। আর লতা মঙ্গেশকর মারা গেলেন আজই, ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।








