১০ মাসেও চুরি হওয়া ট্রফির খোঁজ পাননি মনিরুজ্জামান মনির

বিনোদন রিপোর্ট
২৭ আগস্ট ২০২৩, ১৫:২৯আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ১৫:৪২

নন্দিত গীতিকবি মনিরুজ্জামান মনিরের বাসা থেকে চুরি যাওয়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ট্রফি এখনও উদ্ধার হয়নি। চুরির ঘটনার প্রায় ১০ মাস পার হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও হদিস পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশের ‘উদাসীনতা’ রয়েছে বলে মনে করছেন এই জ্যেষ্ঠ গীতিকবি। 

গত বছর ৩ নভেম্বর গভীর রাতে মনিরুজ্জামান মনিরের পশ্চিম মেরুল বাড্ডার বাসার জানালা ভেঙে মোট পাঁচটি পুরস্কারের ট্রফি নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা কেউ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বিষয়টি টের পান মনিরুজ্জামান মনির। তিনি জানান, চুরি হওয়া ট্রফিগুলোর মধ্যে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের, আর দুটি অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে অর্জিত।
 
ঘটনার পর ৫ নভেম্বর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মনিরুজ্জামান মনির। ডায়েরি নম্বর ৩৬১। পুলিশ এসে তার বাসা পরিদর্শন করে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে গেলেও, ঘটনার ১০ মাস পরেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। 

বিষয়টি নিয়ে মনিরুজ্জামান মনির বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ২৭ আগস্ট তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পুলিশের কাছে গিয়েছি। জিডি করেছি। তাদের সাহায্য চেয়েছি। তারা সরেজমিন দেখেও গেলেন। আমাকে জানালো যে, তাদের বিভিন্ন লোকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, চেষ্টা করছেন। এরপর আমি আর কোনও আপডেট পাচ্ছি না। এখন পুলিশ যদি এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি উদ্ধার করে না দেয়, তাহলে আমার আর কী করার আছে। আমি তো আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। এমন একটি বিষয়ে পুলিশের উদাসীনতায় আমি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।’

পুরস্কারের ট্রফিগুলো উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এই গীতিকবি। তার ভাষ্য, ‘সরকার আমাকে দিয়েছে পুরস্কারগুলো, এখন তো সরকারের উচিত সেটা আমাকে খুঁজে দেওয়া। অনেক জিনিসই তো পাওয়া যায় হারিয়ে বা চুরি গেলে। এ বিষয়ে সরকারের আরও সিরিয়াস হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

গীতিকবি মনে করেন, এই ট্রফি চুরির জন্য দূর দেশ থেকে কেউ উড়ে আসেননি তার বাসায়। এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয়রাই জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। 

১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দুই জীবন’ সিনেমার ‘তুমি ছাড়া আমি একা পৃথিবীটা মেঘে ঢাকা’, ১৯৮৯ সালের ‘চেতনা’ ছবির ‘এই হাত করে নাও হাতিয়ার’ এবং ১৯৯০ সালের ‘দোলনা’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি আমার কত চেনা’ গানগুলোর জন্য সেরা গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। এগুলোই চুরি হয়েছে কবির বাসা থেকে। 

উল্লেখ্য, বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল এবং খ্যাতিমান গীতিকবি মনিরুজ্জামান মনির। আশির দশকের শেষভাগ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একটানা গান রচনা করেছেন তিনি। এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি গান হলো- ‘বুকে আছে মন, মনে আছে আশা’, ‘কী জাদু করিলা পিরিতি শিখাইলা’, ‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’, ‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে, কী দিয়া মন কাড়িলা’, ‘তোমাকে চাই আমি আরও কাছে’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ও আমার বন্ধু গো চির সাথি পথচলার’, ‘আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙাল’ ইত্যাদি। 

সিনেমায় তার লেখা সর্বশেষ জনপ্রিয় গান ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও, আমি এক সিন্ধু হৃদয় দেবো’। এছাড়া রেডিও, টেলিভিশন ও অডিও ভুবনে গীতিকবির লেখা কালজয়ী গানের সংখ্যাও কম নয়। এরমধ্যে ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’ ইত্যাদি গানের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি।

/এমএম/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
চিত্রনায়িকা ববির বাসায় চুরির ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ৪ ভরি স্বর্ণ
চিত্রনায়িকা ববির বাসায় চুরির ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ৪ ভরি স্বর্ণ
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
বিশ্বকাপের ফিফা অ্যালবামেও সানজয়, ফের নোরা ফাতেহির সঙ্গে কোলাবরেশন
বিশ্বকাপের ফিফা অ্যালবামেও সানজয়, ফের নোরা ফাতেহির সঙ্গে কোলাবরেশন