বলে-কয়ে কী অসাধারণ সংগীতময় একটা জীবনের ইতি টেনে গেলেন শাফিন আহমেদ। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক করে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে কথা বলে গেছেন তার শ্রোতাদের সঙ্গে। হাসপাতালের বিছানায় বসে কনসার্টে থাকা দর্শকদের বলেছেন, ‘এবার হলো না। আগামীতে নিশ্চয়ই আপনাদের সাথে দেখা হবে।’
না। হলো না। ফের সরাসরি মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের সঙ্গে একজন শাফিন আহমেদের মিথস্ক্রিয়া আর হবে না বুঝি। হবে নিশ্চয়ই, তবে অন্যভাবে। তার গানে গানে। কারণ তিনি তো তার গানের মতোই, ‘চাঁদ তারা সূর্য নও তুমি, নও পাহাড়ি ঝর্না/ যদি বলি ফুল তবুও হবে ভুল, তোমার তুলনা হয় না।’
তবে ২৫ জুলাই ভোরে শাফিন আহমেদের মৃত্যুর খবর ছাপিয়ে খুব করে শ্রোতামনে ধরা দিয়েছে একটি ভিডিও বার্তা। যে বার্তাটি তিনি দিয়েছিলেন ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি স্টেজ শোতে। যে অনুষ্ঠানে তারও গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর খানিক আগে হোটেল রুমে অচেতন হয়ে পড়েন শাফিন আহমেদ। ভর্তি হন হাসপাতালে। একই সময়ে সেই কনসার্টে পারফর্ম করার জন্য মঞ্চে উঠেছিলেন সামিনা চৌধুরী। তার পরিবেশনা শুরুর আগে মঞ্চে থাকা এলইডি পর্দায় ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হন শাফিন আহমেদ। যাতে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিছানায় বসে দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারার বিষয়ে।
শাফিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে কনসার্টে আপনাদের সাথে দেখা হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক কিছু লক্ষণের জন্য আমি একটু মেডিক্যাল চেকআপ করতে আসি। মেডিক্যাল চেকআপ করতে এসে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দেশ অনুযায়ী সময় লাগছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চেকআপ করতে হচ্ছে। আপনারাও দেখতে পারছেন এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আপনাদের সাথে হয়তো আজকে আর দেখা হচ্ছে না। দুঃখিত আমার সব শ্রোতা এবং ভক্তদের কাছে, একই সঙ্গে আয়োজকদের কাছেও। আগামীতে নিশ্চয়ই আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। আমি আশা করবো আপনাদের সাথে দেখা হবে। ধন্যবাদ।’
না। শাফিন আহমেদের শেষ আশাটি আর পূর্ণ হলো না। কারণ সেদিন (২০ জুলাই) গভীর রাতেই গুরুতর হার্ট অ্যাটাক হয় শিল্পীর। চলে যান গভীর ঘুমে। অবশেষে ২৫ জুলাই ভোরে বাংলাদেশে আসে শাফিন আহমেদের মৃত্যুর খবরটি।
এরইমধ্যে শাফিন আহমেদের মরদেহ দেশে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা জানিয়েছেন হামিন আহমেদ।
বলা দরকার, শাফিন আহমেদের জন্ম ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, কলকাতায়। সংগীতের কিংবদন্তি দম্পতি কমল দাশগুপ্ত ও ফিরোজা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র তিনি। তারা তিন ভাই তাহসিন, হামিন ও শাফিন।
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’ গঠিত হয়। এর কিছু দিন পর এতে যুক্ত হন শাফিন ও হামিন। যদিও শেষ ক’বছর দুই ভাইয়ের মধ্যে ব্যান্ডের মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে শাফিন আহমেদ ‘মাইলস’ ছেড়ে গড়ে তোলেন ‘ভয়েস অব মাইলস’।
শাফিন আহমেদের কণ্ঠে মাইলস-এর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ফিরে এলে না’, ‘হ্যালো ঢাকা’, ‘জাতীয় সংগীতের দ্বিতীয় লাইন’, ‘আজ জন্মদিন তোমার’ প্রভৃতি।





