বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নুড়ি স্থান পেয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব-এর শর্ট ফিল্ম কর্নারের ‘আগামীর সিনেমা’ বিভাগে। চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মিথুন জামান।
ফ্রান্সের কান শহরে আয়োজিত ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারের অফিসিয়াল মার্কেট ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের বাংলা ভাষার এই চলচ্চিত্র। ১৭ মে শুরু হওয়া এই আয়োজন শেষ হচ্ছে ২০ মে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজক হাসিব জুবেরী শিহান এবং নির্মাতা মিথুন জামান বর্তমানে উৎসবে অংশ নিতে কানে অবস্থান করছেন।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজক হাসিব জুবেরী শিহান বলেন, “এসএফসি রঁদেভু-ইন্ডাস্ট্রি একটি পেশাদার প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিবেশক, উৎসব প্রতিনিধি এবং বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংযোগ তৈরি হয়। উৎসব চলাকালে আমাদের চলচ্চিত্র ‘নুড়ি’ এসএফসি’র মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ভিউয়িংয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযোজক ও পরিবেশকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তরুণ নির্মাতাদের জন্য এটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দারুণ একটি সুযোগ। আমরা এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।”
কক্সবাজারের পটভূমিতে নির্মিত ‘নুড়ি’তে তুলে ধরা হয়েছে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর গল্প। একটি সদ্যজাত ঘোড়ার বাচ্চার সঙ্গে অপ্রত্যাশিত বন্ধনের মধ্য দিয়ে সে খুঁজে পায় সাহস এবং বেঁচে থাকার নতুন আশা। চলচ্চিত্রটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছে কক্সবাজারেরই এক স্থানীয় কিশোরী।
চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে মিথুন জামান বলেন, “একটি কিশোরীর অন্তর্জগতকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে বৈশ্বিক বাস্তবতা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ ও বাস্তব জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতায় ভরা এই সময়ে ‘নুড়ি’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে যে সহনশীলতা অনেক সময় সবচেয়ে ছোট ছোট মানবিক আচরণের মধ্যেই বেঁচে থাকে, আর আশা টিকে থাকতে পারে আমাদের সবচেয়ে ভঙ্গুর সম্পর্কেও।”
‘নুড়ি’র প্রযোজক হাসিব জুবেরী শিহান ও বাশার জর্জিস। সহ-প্রযোজক হিমেশ কর। চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন শৈব তালুকদার ও জাওয়াদ পারভেজ। সংগীত পরিচালনা করেছেন আমজাদ হোসেন। সম্পাদনা করেছেন সামীর আহমেদ ও হাসিব জুবেরী শিহান।
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে টিম প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড। ঢাকাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে তিমির গান প্রযোজনা করে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার এবং ডিজিকন৬ এশিয়া বাংলাদেশ-এ স্বর্ণ পুরস্কার অর্জন করে।





