বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করলেও অভিনয়ে তাঁর পথচলা অত্যন্ত দীর্ঘ। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে এবার তিনি নতুন করে ভাবছেন, শুধু অভিনয়েই নয়, লেখায়, নির্মাণেও নিজেকে ব্যস্ত করছেন। আগামী ৯ জুলাই শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হবে তাঁর নির্দেশিত প্রথম নাটক ‘রঙমহাল’। সবকিছু নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হলেন তিনি—
আপনার নির্দেশিত নাটক ‘রঙমহাল’ ফের মঞ্চে আসছে, নাটকটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
ঢাকা থিয়েটারের ৫৪তম প্রযোজনা ‘রঙমহাল’। নাটকটি প্রসঙ্গে এর লেখক রুবাইয়াৎ আহমেদ যেভাবে বলেছেন, রূপ-অরূপের আখ্যান, তেমনটাই। ফোক আঙ্গিকে নাটকটি নির্মাণের চেষ্টা করেছি। ঢাকা থিয়েটারের হয়ে এটি আমার প্রথম নির্দেশনা। এর আগে জাহাঙ্গীরনগরে নির্দেশনা দিয়েছি। এ নাটকটির ইতিমধ্যেই পাঁচটা শো হয়ে গেছে। আমি কৃতজ্ঞ শ্রদ্ধেয় নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ভাইয়ের কাছে, তিনি আমাকে নির্দেশনার সুযোগটি দিয়েছেন।
প্রথমবারের মতো নির্দেশনায় এলেন, অভিজ্ঞতা কেমন?
ঢাকা থিয়েটার অনেক বড় দল। আমি অনেক সৌভাগ্যবান। দলের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ইতিমধ্যেই দর্শক যারা নাটকটি দেখেছেন, তাদের অনেক ভালো লেগেছে। ৯ জুলাই আবারও মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। আমরা রিহার্সেলে ব্যস্ত সময় পার করছি। দর্শকরা নাটকটি পছন্দ করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
অভিনেতা হিসেবেই আপনাকে সকলে চেনে, লেখক হিসেবেও আপনি সমাদৃত হচ্ছেন। নতুন বই আসছে বলে খবর পাওয়া গেল...
হ্যাঁ, আমার নতুন বই আসছে। বইটির নাম ‘মুছে যাওয়া দিনগুলো’। বইটি তৈরি হয়ে গেছে। আশা করছি খুব শিগগিরই বইটি প্রকাশ হবে। কিছু সত্য ঘটনা গল্প আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। যার মধ্যে থাকছে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কিছু স্মৃতি, ছোটবেলার কষ্টের কথা, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কষ্ট করেছি। গল্প আকারে লিখেছি, যেহেতু মাধ্যমটা সাহিত্য। এটা বলে রাখি, আমি মূলত লেখক না। মূলত অভিনেতা। পাঠক যেহেতু পড়ে, সেহেতু আমিও লিখে আনন্দ পাই।
এর আগে আপনার প্রকাশিত বইগুলো কী?
‘স্মৃতিতে হুমায়ূন আহমেদ’, ‘আমার না বলা কথা’, তিনটি নাটক নিয়ে ‘হাউমাউখাউ’ ও ‘ভাঙা চশমা’।
অভিনেতা হিসেবে এখন ব্যস্ততা কেমন?
বিজ্ঞাপনের কাজ করলাম বিকাশের, বার্জারের। সিরিয়াল করলাম—‘এই শহর এই পরিবার’। কিছু সিঙ্গেল নাটকও করেছি। চলচ্চিত্রে কাজ করেছি মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘বিদায়’ নামে একটি চলচ্চিত্রে। ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্রটির ৯০ শতাংশ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসে বা সামনের মাসে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বাকিটা করব। খুব ভালো সামাজিক একটা গল্পের ছবি নির্মাণ করছে হৃদয়। এতে আমি আছি, বাপ্পারাজ আছেন, দীঘি আছেন, ফজলুর রহমান বাবু আছেন।
আপনার ভক্তদের নতুন কোন খবর দিতে চান?
সামনে নাটক নির্মাণে আসছি, টেলিভিশন ও ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্য।
এর আগে নাটক নির্মাণের অভিজ্ঞতা ছিল?
একটি নাটক নির্মাণ করেছি অনেক আগে, নাটকটির নাম ‘ডিগবাজি’। কিন্তু বেশ কিছু নাটক লিখেছি—‘কালশাপের দর্শন’, ‘উচ্চবংশ পাত্র চাই’, ‘দুই বাসিন্দা’সহ ছয়-সাতটা নাটক।
নাটকগুলো কেমন পরিকল্পনা আপনার?
আমি আসলে ভালো গল্পে নাটক নির্মাণ করতে চাই। মানুষকে সুস্থ বিনোদন দিতে চাই। আগের নাটকগুলোর মতো, যেমন হুমায়ূন আহমেদ, সেলিম আল দীন, মাসুম রেজা, কাউসার আহমেদের নাটকের মতো নাটক নির্মাণ করতে চাই। নাটকের গল্পগুলো শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেই তৈরি হচ্ছে।
টেলিভিশন নাটকের বর্তমান অবস্থা কেমন মনে করছেন?
টেলিভিশনেও অনেক ভালো নাটক হচ্ছে। খারাপ নাটকের ভিড়ে ভালো নাটকগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আমি এমন নাটক নির্মাণ করতে চাই, আমজনতা যেন ঘরে বসে সবাই মিলে দেখতে পারে। ভিউয়ের চিন্তা করছি না। আমি যে গল্পগুলো সিলেক্ট করব, সেগুলো সুস্থধারার হবে।
সবশেষে, সময়ের কাছে আপনার প্রত্যাশা...
আমি কারও বিপক্ষে নই। প্রচুর ভালো কাজ হচ্ছে। ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী, নির্মাতা আছেন। লেখক হয়তো একটু কম আছেন। ভালো নির্মাণের জন্য চাই ভালো গল্প। সবাইকে সেদিকটায় মনোযোগী হতে বলব। আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক।





