ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় খলনায়ক নাসির খানের জন্মস্থান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। তার জন্মভিটা ঘিরে থাকা একটি জায়গা বর্তমানে পরিচিত ‘নাসির খানের গলি’ নামে। প্রিয় অভিনেতার প্রতি সম্মান জানাতেই জন্মস্থানটির এই নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন নাসির খান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তার জন্মদিন। জন্মস্থান থেকে উঠে এসে চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই অভিনেতা।
১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নাসির খানের। এরপর দীর্ঘ ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
হুমায়ুন ফরীদি, রাজিব, এটিএম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো জনপ্রিয় খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে—‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘গরিবের রাণী’সহ আরও অনেক চলচ্চিত্র।
নাসির খানের অভিনয়ের পাশাপাশি তার সংলাপও দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল। ‘মুরব্বিরা যা বলে, বুদ্ধিমানরা সেই মতোই চলে’, ‘কথা কম, কাজ বেশি—মানুষরে আমি বড় ভালোবাসি’, ‘মামা বলত, ভাগনে বেশি লোভ করিসনে’ এবং ‘আমার দুঃখ আছে, কিন্তু কষ্ট নাই’—এমন বেশ কিছু সংলাপ দর্শকদের মুখে মুখে ফিরেছে।
২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান নাসির খান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ও তিন মেয়ে—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা এবং মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান।





