ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মুম্বাই পুলিশ খান পরিবারের সবার বয়ান নিচ্ছে। কারিনা কাপুর থেকে শুরু করে বাদ যায়নি কনিষ্ঠ পুত্র জেহ’র আয়া এলিয়ামা ফিলিপও। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই আয়ার কাছ থেকেই বড় তথ্য মিলেছে তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।
ফিলিপকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। আয়ার কথা থেকে প্রায় পরিষ্কার, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই সাইফের বান্দ্রার বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন আক্রমণকারী।
জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ জানান, তিনি জেহ’র ঘরের মেঝেতে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত ২টার দিকে তার ঘুম ভেঙে যায় একটি শব্দ শুনে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, কারিনা হয়তো ওয়াশরুমে গেছেন। কিন্তু দরজায় তিনি এক ব্যক্তির ছায়া দেখতে পান। তিনি দেখেন, একজন লোক ছোট্ট জেহ’র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দৌড়ে যান জেহ’র দিকে কিন্তু সেই সময় হামলাকারী তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।ফিলিপ বলেন, ‘আমি বাথরুমে কেউ আছে কিনা তা দেখার জন্য উঠে বসলাম। তখন দেখলাম একজন রোগা ও বেঁটে লোক বেরিয়ে এসে জেহ’র বিছানার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, জেহ’র দিকে এগিয়ে গেলে লোকটি তার দিকে আঙুল তোলে এবং তাকে সতর্ক করে দেয় এবং বলে মুখ থেকে আওয়াজ না বের করতে। লোকটা বলে, ‘কোনও আওয়াজ হবে না (কোই আওয়াজ নেহি)।’
আয়া পুলিশকে আরও জানান, তিনি জানতে চান, কী চায় ওই ব্যক্তি। জবাবে সে ১ কোটি রুপি দাবি করে। তার ভাষ্যমতে, ‘১ কোটি রুপিই আক্রমণকারীর কাছে মুখ্য ছিল।’
এরপর ফিলিপ বলেন, ‘ধস্তাধস্তির সময় সে ব্লেড দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার কব্জিতে চোট লেগেছে।’
তিনি পুলিশকে আরও জানান যে, আক্রমণকারীর বয়স প্রায় ৪০ বছর হবে। তার চিৎকার শুনে সাইফ ও কারিনা নিজেদের বেডরুম থেকে ছুটে আসেন। সাইফ ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে যান। অভিনেতার ছিল খালি হাত, অন্যদিকে হামলাকারীর হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। অভিনেতা মারাত্মকভাবে জখম হন। বাড়ির লোকেরা জেগে উঠেছে বুঝতে পেরে ততক্ষণে পালিয়ে যায় আততায়ী। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীকে ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি দিয়ে পালাতে দেখা গেছে।
বলা প্রয়োজন, ৪ বছর ধরে এই তারকা দম্পতির সঙ্গে আছেন ফিলিপ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ২টায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সাইফের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে। আঘাতের পর তাকে দ্রুত একটি অটোরিকশায় করে লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। সুস্থ হয়ে উঠছেন খান সাহেব। ২-৩ দিনের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া





