মুক্তিযুদ্ধে সব হারানো দুই বোন রাহেলা ও সালেহা, তাদের এক জীবনের আখ্যানের নকশা তোলে নকশীকাঁথার জমিনে। এমনই গল্প নিয়ে বিজয়ের মাসে মুক্তি পাচ্ছে আকরাম খান পরিচালিত ‘নকশীকাঁথার জমিন’।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই বোন যে তাদের পরিবারের সবাইকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকে, তারই রেশ মিলেছে। সিনেমায় রাহেলা চরিত্রে জয়া আহসান। তারই কিশোরকালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লাবণ্য চৌধুরী। এই কিশোরী আগেও জয়ার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ‘দেবী’ সিনেমায়।
ফের ২৭ ডিসেম্বর বড় পর্দায় লাবণ্য হাজির হচ্ছেন জয়া আহসানের ছোটবেলার চরিত্রে! জয়া আহসান এমন একজন অভিনেত্রী, যার সঙ্গে কাজ করা গৌরবের, এমনটাই বললেন এই তরুণ অভিনেত্রী।
এসব নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন লাবণ্য। বলেন, “জয়া আপুর সাথে এর আগেও আমি ‘দেবী’ সিনেমায় কাজ করেছি। সেখানেও তার ছেলেবেলার চরিত্রে কাজ করেছিলাম। এবার জয়া আপুই আমার কথা নির্মাতাকে বলেন। তার (জয়া আহসান) সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। একসাথে হয়তো আমাদের শুট হয়নি, কিন্তু তার সাথে এক সিনেমায় কাজ করাও গর্বের।’’
রাহেলা চরিত্রের বিশেষত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে লাবণ্য বলেন, ‘রাহেলা এমন একটি চরিত্র, যে হাসে না, বেশি কথা বলে না। চুপচাপ থেকে শুধুমাত্র তার বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ দিয়েই নিজেকে প্রকাশ করে। তার চোখ, শরীরের ভাষা এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে, যেটা ক্যামেরার সামনে চরিত্রায়ন করা সহজ কাজ ছিল না আমার জন্য। আর এই সিনেমায় আমাকে কোনও মেকাপ দেওয়া হয়নি। একদম গ্রামের সাধারণ একটা মেয়ের চেহারায় দেখতে চেয়েছেন পরিচালক।’
রাহেলা চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতা আকরাম খান তাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন বলে জানান লাবণ্য। তিনি বলেন, ‘আকরাম খান এমন একজন নির্মাতা যিনি কোনও চরিত্রকে বর্ণনা করার পর কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আমার কাছে চরিত্রটি খুব পরিষ্কার ছিলো। তাই সমস্যা হয়নি কাজ করতে গিয়ে।’
নিজের চরিত্র কিংবা জয়া আহসান বা আকরাম খানকে নিয়েই নয়, পুরো সিনেমা সম্পর্কেও লাবণ্যর মুগ্ধতা অপার। তার ভাষায়, ‘যখন আমার কাছে এই সিনেমার প্রস্তাব আসে, অনেক খুশি হয়েছি। তবে আমার বাবা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার আবেগ অনেক বেশি। আমিও বাবার মুখে শুনে বা বইয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা জেনেছি, তা আমাকে আবেগাপ্লুত করে। সিনেমাটি করতে গিয়ে সেটা আরও বুঝেছি। আমার দৃশ্যের বাইরেও যখন মুক্তিযুদ্ধের কোনও দৃশ্য হতো, সেটি আমি স্পটে বসে বসে মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। মোট মিলিয়ে আমি মনে করি, এটি মুক্তিযুদ্ধের অসাধারণ একটি সিনেমা হতে চলেছে।’
এদিকে লাবণ্য এখন ব্যস্ত চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত টেলিফিল্ম ‘হিডেন ফোল্ডার’ নিয়ে। এটি নির্মাণ করছেন আনিসুল হক বরুণ। সামনে তিনি এইচএসএসসি পরীক্ষা দেবেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলছে পরীক্ষার প্রস্তুতিও।
লাবণ্য অভিনীত আরও দু’টি সিনেমা আছে মুক্তির তালিকায়। তা হলো অরণ্য আনোয়ারের ‘হাওড়’ এবং আওয়াল চৌধুরী নির্মিত ‘আগুনের পাখি’। এছাড়াও খুব দ্রুতই মুক্তি পাবে তার দু’টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা দীপক চৌধুরীর ‘শিরিনের একাত্তর যাত্রা’ এবং সগীর মোস্তফার ‘অয়নের গল্প’








