সেন্সরবোর্ডে জমা দেওয়ার পর কেটে গেছে টানা ৫ বছর। কিন্তু মুক্তির ছাড়পত্র মেলেনি অনন্য মামুন নির্মিত ‘মেকআপ’ সিনেমার। বেশ আগে, খোদ বোর্ড সদস্যরাই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই ছবি প্রদর্শনযোগ্য নয়। তাই ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা হলো। মূল কারণ, এই ছবির পরতে পরতে নাকি ছড়িয়ে আছে অশ্লীলতা এবং সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে নেতিবাচক উপস্থাপন। তাই, কর্তনসাপেক্ষে মুক্তির পথটাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন সেন্সরবোর্ড কর্তারা।
৫ আগস্টের পর সেই সিনেমাটি মুক্তির আশা পায়। ফের আবেদন করেন অনন্য মামুন। কারণ, এরমধ্যে সেন্সরবোর্ড ভেঙে গড়া হয় সার্টিফিকেশন বোর্ড। বলা হচ্ছিলো, এর ফলে আর কোনও ছবি কাটা পড়বে না, আটকে থাকবে না মুক্তির প্রতীক্ষায় অনন্ত সময়। যার ফলাফলও মিলেছে এর মধ্যে। ‘ভয়াল’ নামের একটি সিনেমা ছাড়পত্র পেয়েছে ‘এ’ গ্রেডে। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘এডাল্ট’ মার্ক পেয়েছে। সেটি মুক্তিও পেয়েছে সম্প্রতি।
এমন আশাবাদের বিপরীতে নতুন আশার আলো মিলেছে সেন্সরজালে বন্দী ‘মেকআপ’ শিবিরে। টানা ৫ বছর পর গত ১৭ ডিসেম্বর সিনেমাটিকে মুক্তির ছাড়পত্র দিয়েছে সার্টিফিকেশন বোর্ড। তার ওপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ছবিটি পেয়েছে ‘ইউ’ গ্রেড! অর্থাৎ ইউনিভার্সাল। মানে ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই দেখতে পারবে ছবিটি!
রহস্যময় তথ্য এই, এমন অবিশ্বাস্য আনন্দের খবরেও ‘মেকআপ’ কর্তা অনন্য মামুনের মন বেজায় ভার।
খুশির খবরটি ভাগাভাগি করে নিতে বাংলা ট্রিবিউন যোগাযোগ করে মামুনের সঙ্গে। অপরপ্রান্ত থেকে নির্মাতা বিরস কণ্ঠে জানান, নিজেকে এই সিনেমার সাথে জড়াতে চান না আর! শুধু এই সিনেমা নয়, নির্মাতা বর্তমানে তার কোনও কাজ নিয়েই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চান না। পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে কোনও খবরের সাথে জড়াবেন না। এই সিনেমার ব্যাপারে কথা বলতে একদমই আগ্রহী নই।’
ঠিক কী কী কারণে সিনেমাটি আটকে রাখা হয়েছিলো বা কোন নিয়ম মেনে ছাড়পত্র পেলো কিংবা অশ্লীলতার অভিযোগ থাকার পরেও কেমন করে ‘ইউ’ গ্রেড পেলো; এসব প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা বলেন, ‘তেমন কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি সিনেমা থেকে। মাত্র ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড কেটে নেওয়া হয়েছে। এইটুকু অংশ কেটে নিলে সিনেমার কোনও ক্ষতিই হয় না। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) কিছু ছবি ব্যবহার করা হয়েছিলো, ওগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে কিছু সংলাপ নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। খুব ছোট কারেকশন, এটা কোনও বড় ইস্যু নয়।’
সিনেমাটি কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তর দিতেও তিনি নারাজ। বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। এসব দেখছে সিনেমার প্রোডাকশন হাউজ এবং অন্যরা।’
খানিক ক্ষুব্ধ অনন্য মামুন আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে আমার কথা বলার দরকার নেই। সময় হলেই বলবো। এটাও আমার মার্কেটিং পলিসির একটা অংশ বলতে পারেন। আর আমি যখন কোনও কাজ করি, সেটা নিয়ে আগাম কথা বলি না। কাজটি শেষ হওয়ার পর কথা বলার প্রয়োজন হলেই কেবল কথা বলি।’
বলা দরকার, অনন্য মামুন নির্মিত ‘মেকআপ’ সিনেমাটি ২০২১ সালে সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সেসময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দেয়ার বদলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলো। ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তখনকার বোর্ডের অন্যতম সদস্য খোরশেদ আলম খসরু।
সিনেমাটির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, এতে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের বাজেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
খসরু তখন বলেছিলেন, ‘এটি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সরাসরি বিরুদ্ধের একটি সিনেমা। যার মাধ্যমে সিনেমা শিল্পের মানুষদের খুবই খারাপভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেটা কখনোই কাম্য নয়। আমি মনে করি এই ছবি প্রদর্শনের অযোগ্য। তাই সেন্সর বোর্ড সদস্যদের সবার সম্মতিক্রমে ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
‘মেকআপ’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে একজন সুপারস্টারের জীবনের গল্প নিয়ে। সিনেমায় একজন চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান। ছবিতে তার নাম শাহবাজ খান। এছাড়াও অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান, জিয়াউল রোশান, নিপা আহমেদ, পায়েল মুখার্জী, বিশ্বজিৎ মুখার্জী প্রমুখ।
২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বেশ কিছু স্থানে সিনেমাটির শুটিং হয়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে সেলিব্রেটি প্রোডাকাশন। মজার তথ্য, সিনেমাটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও ২০২১ সালের ২১ মার্চ একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়!





