বিমানবন্দরে করোনা প্রতিরোধ নিয়ে শতাব্দী ওয়াদুদের ক্ষোভ

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৫২, মার্চ ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, মার্চ ০৩, ২০২০

এই সফরে শতাব্দী ওয়াদুদ২৮ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া হয়ে ইন্দোনেশিয়া সফরে গেছেন দেশের অন্যতম অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ। ঢাকায় ফিরেছেন গতকাল (২ মার্চ) রাতে।
দুই দেশ ঘুরে ঢাকায় ফিরে গোটা বিশ্বের বর্তমান প্রধান আতঙ্ক করোনা ভাইরাস নিয়ে কথা বললেন এই অভিনেতা। বিস্ময় প্রকাশ করলেন নিজ দেশের হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের দুর্বলতা নিয়ে। জানালেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের একটা ফরম ফিলআপ করা ছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের বিমানবন্দরে আর কোনও ব্যবস্থা নেই!’

২ মার্চ রাতে শতাব্দী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন তার অভিজ্ঞতার বিস্তারিত, জানান তীব্র প্রতিক্রিয়াও।

ঢাকা হয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়া-আসার অভিজ্ঞতা থেকে শতাব্দী বলেন, ‘পৃথিবীজুড়ে এখনকার একমাত্র আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। পৃথিবীর সব দেশ বিভিন্ন রকম প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছে অথবা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। কিন্তু আমাদের হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল! এখানে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেই। একটা ফরম ফিলআপ করা ছাড়া বোর্ডাররা আর কিছুই করতে পারছেন না! যে কাউকে কোনও মেডিক্যাল চেকআপ ছাড়া বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।’

শতাব্দী মনে করেন, বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন কর্তৃপক্ষকে।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব দুশ্চিন্তা থেকেই এই কথা বললাম। কারণ, সারা পৃথিবী ব্যাপারটা নিয়ে যেভাবে আতঙ্কিত ও সিরিয়াস, আমাদের বিমানবন্দরে তার ছিটেফোঁটাও দেখিনি! অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে শতাব্দী ওয়াদুদ বলেন, ‘বিমানবন্দরের এই হাল থেকে আমি সত্যিই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। রাষ্ট্রব্যবস্থা যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা অতিসত্বর এই ব্যাপারটার দিকে নজর দেবেন এই আশা করি। আর যারা দায়িত্বের নামে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন তাদের খুব ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে- এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’


এই সফরে বিমানবন্দরে তোলা সেলফি

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে শতাব্দী তার ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘আর কত মজা করবেন সাধারণ মানুষকে নিয়ে। কারণ, দিনশেষে আপনারাও অসাধারণ মানুষ নন। জনগণ এখন অনেক সচেতন, আমরা বাঁচলে আপনারা বাঁচবেন। খুব খেয়াল করে খেলবেন, ঈশ্বর মহান!’
শতাব্দী ওয়াদুদের অভিনয় জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে, নব্বই দশকের শেষদিকে। পরে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘শঙ্কিত পদযাত্রা’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হয়। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ফুলকুমার (২০০২)। তিনি ২০১১ সালে ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ৩৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ খলচরিত্র অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।
নানামাত্রিক চরিত্রে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদ এখনও সমান ব্যস্ত।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ