লকডাউনে সৃষ্টি হলো বাবা-ছেলের ব্যান্ড

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৫:১৭, এপ্রিল ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৩, এপ্রিল ১০, ২০২০

বাবা ও ছেলের পরিবেশনাকরোনা প্রতিরোধে গোটা দেশ প্রায় লকডাউন। সিংহভাগ মানুষ রয়েছেন কোয়ারেন্টিনে। বাংলায় বললে গৃহবন্দি জীবন। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে কণ্ঠশিল্পী আশীষ হাতে তুলে নিলেন গিটার। ডেকে নিলেন তার ৭ বছর বয়সী পুত্র অংশুমানকে। সিদ্ধান্ত নিলেন, এই লকডাউন সময়টাকে তারা কাজে লাগাবেন গানে গানে।

যেমন ভাবনা তেমন কাজ। পিতা-পুত্র গড়ে তুললেন ব্যান্ড ‘সং ফর গুড’। লাইনআপ এমন—গিটার ও কণ্ঠ আশীষ এবং শেকার ও কণ্ঠ অংশুমান। গানের কথা-সুর তৈরি করছেন আশীষ নিজেই।
সাত দিন বয়সী এই ব্যান্ড এরইমধ্যে পাঁচটি গান উপহার দিয়েছে। যা প্রকাশ পেয়েছে ব্যান্ডের নামে ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে। যারমধ্যে যেমন রয়েছে করোনা প্রতিরোধ নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির গান, তেমনি রয়েছে লকডাউনের মাঝেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এখনও বাইরে কাজ করছেন তাদের নিয়ে। করোনা বিষয়ের বাইরেও পিতা-পুত্র গান গেয়ে মুগ্ধ করছেন শ্রোতাদের। বিশেষ করে শিশু শ্রোতাদের লক্ষ্য করে তারা গেয়েছেন তিনটি ছড়াগান।
এমন উদ্যোগ প্রসঙ্গে আশীষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি আগে থেকেই গাওয়ার চেষ্টা করছি। মূলত বাচ্চাদের জন্য গান করতাম। তবে গান বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের পরিকল্পনা এ পর্যন্ত ছিল না। যেটা এবার হয়ে গেল, তাও আবার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে। এটা আমাদের বাপ-বেটার জন্য খুবই আনন্দের বিষয়। আরও ভালো লাগছে, যখন দেখছি এই খারাপ সময়েও আমাদের গানগুলো মানুষ শুনছেন আর প্রশংসা করছেন।’


আশীষ জানান, বছর চার আগে ‘সং ফর গুড’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলেন কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই। গেল চার বছর সেদিকে চেয়েও দেখেননি। সেই চ্যানেলে এক সপ্তাহে প্রকাশ হলো বাবা-ছেলের পাঁচটি গান-ভিডিও।
আশীষ বলেন, ‘এভাবে লকডাউন হয়ে যাবো, সেটা তো কখনও ভাবিনি। তো আমি স্ত্রী আর এক পুত্র নিয়ে বাসায় আছি গেল দুই সপ্তাহ। প্রথম সপ্তাহ ঘরে শুয়ে-বসে খেয়ে-দেয়ে কাটালাম। কিন্তু সময় তো কাটে না। দুশ্চিন্তাও কমে না। অসহায় মানুষ কিংবা জরুরি সেবা দেওয়া মানুষগুলোর জন্যও খারাপ লাগছে। এসব ভাবনা থেকেই গিটার তুলে নিলাম, ছেলেকে ডেকে নিলাম, গান ধরলাম দুজনে। ওর মা আমাদের সামনে ক্যামেরা ধরলো। ব্যাস হয়ে গেল! আমি মনে করি ঘরে থাকা প্রত্যেকেরই এভাবে কিছু না কিছু করা দরকার।’



‘সং ফর গুড’ ব্যান্ডের প্রকাশিত শেষ গান ‘তুমিই আমাদের মুক্তিযোদ্ধা’। যেখানে বাবা-ছেলে কথা-সুরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জরুরি সেবা দেওয়া মানুষগুলোকে। কথাগুলো এমন—আমি যখন ঘরের ভেতর/ খাচ্ছি-দাচ্ছি হচ্ছি বোর/ তুমি তখন সবার জন্য/ খেটে মরছো রাত-দিন-ভোর।
করোনা মহামারিতেও যারা ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করছে, জীবন বাজি রেখে সেবা দিচ্ছে পুরো জাতিকে, সেই মানুষগুলোকে মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিহিত করা হলো এই গানের মাধ্যমে।
আশীষ বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা গানটাকে বড় বেশি ভালোবাসি। বিশ্বাসও করি। চলমান দুঃসময়ে আমাদের গান যদি কাউকে উৎসাহ দেয়, আনন্দ দেয়, সেটাই বড় প্রাপ্তি। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ভিউ কিংবা ভাইরাল হওয়ার কোনও প্রবণতা আমাদের বাপ-বেটার মধ্যে নেই।’

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ