আমার চাওয়া, দেশের মানুষ সচেতন হোক: রুনা লায়লা

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ১২:২৩, মে ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৫, মে ১৫, ২০২০

রুনা লায়লা আপা, অনেকদিন কথা হয় না! ভালো আছেন তো? উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। বুধবার (১৩ মে) বিকালে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথাটা লিখতেই তিনি উত্তর দিলেন, ‘ধন্যবাদ। ভালো আছি।’

এরপর একটা উড়ো বিষয়ে অল্প কথাবার্তা হলো মেসেঞ্জারে। সেটা এখানে না লেখাই ভালো। কথাটা শুনে তিনি শুধু বললেন, ‘আয়ু বাড়লো!’
তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো বলে। রাজধানীর আসাদ অ্যাভিনিউর ‘ড্রিম’ বাড়ি থেকে মেসেঞ্জারে কল দিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে তার নানান বিষয়ে আলাপ হলো মিনিট দশেক।
বাংলা ট্রিবিউন: করোনাভাইরাস মহামারিতে সবকিছু স্থবির হয়ে যাওয়ায় নিশ্চয়ই হতাশ আপনি?
রুনা লায়লা: খারাপ তো লাগছেই। অনেক কিছু বদলে গেছে। তবে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এই সংকট থেকে উতরে উঠতে হবে। এজন্য আমাদের সবারই সাবধান থাকা চাই। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলার বিকল্প নেই। নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি অন্যকে নিরাপদে রাখার দায়িত্ব সবার। আমার চাওয়া, দেশের মানুষ সচেতন হোক। আমি মনে করি, সচেতনতা বাড়লেই করোনা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা বুঝবে সবাই।
বাংলা ট্রিবিউন: বাসা থেকে বের হচ্ছেন?
রুনা লায়লা: গত ১৬ মার্চ দেশে ফিরেছি। এরপর থেকে বাসায়ই আছি। কোথাও যাইনি। করোনার প্রকোপ না কমে আসা পর্যন্ত সবারই ঘরে থাকা উচিত। দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এখন এটাই আমাদের কর্তব্য। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে জীবাণুর সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
মঞ্চে রুনা লায়লাবাংলা ট্রিবিউন: সারা দিন বাসায় থেকে বিরক্ত লাগছে না?
রুনা লায়লা: নাহ! কারণ আমি আগে থেকেই বাসায় দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই। কাজ না থাকলে বের হই না তেমন। আর এখন লকডাউনে সব কাজ বন্ধ। তাই কোয়ারেন্টিন আমার কাছে নতুন ঠেকছে না। তবে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা হয়। আমি চাই সবাই নিরাপদ থাকুক। সৃষ্টিকর্তা সবার মঙ্গল করুন।
বাংলা ট্রিবিউন: বাসায় কীভাবে সময় কাটে?
রুনা লায়লা: বই পড়ে সময় কাটাই। গান শুনি, ছবি দেখি। মেয়ে ও নাতিদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ হয় প্রতিদিন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেড় মাস লন্ডন ছিলাম। তখন দ্য হাউজ অব লর্ডসে আমার গানের অ্যালবামের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়েছে। এটি আমার জীবনের অসাধারণ একটি মুহূর্ত। আশা ভোঁসলে, রাহাত ফতেহ আলী খান, হরিহরণ, আদনান সামি এই অ্যালবামে বাংলা গান গেয়েছেন।
বাংলা ট্রিবিউন: লকডাউনে কি নতুন গান সুর করেছেন?
রুনা লায়লা: হ্যাঁ। ৫-৬টি নতুন গান সুর করেছি। এগুলো করেই সময় কাটছে। লকডাউন শেষ হওয়ার পর সব স্বাভাবিক হলে এগুলোর রেকর্ডিং করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: ইনস্টাগ্রামে গত ১০ মে ভারতীয় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির একটি পোস্টে* দেখলাম রুনা লায়লার কথা। আপনার মুখে ব্যাপারটা শুনি।
রুনা লায়লা: ভারতের দূরদর্শন চ্যানেলে ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ গানটি পরিবেশনের সময় যে ঢঙের কানের দুল পরতাম, সব্যসাচী মুখার্জি সেরকম দুল ডিজাইন করেছে। ব্যাপারটা জেনে ভালো লেগেছে।
তরুণকালে রুনা লায়লা
*সব্যসাচী মুখার্জির ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি অনেকটা এরকম– পোশাক ও অলঙ্কারের মাধ্যমে আমি স্মৃতি ভাগাভাগি করি... বাংলাদেশের কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লার প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ইস্ট অব বেঙ্গল’ কানের দুল সৃষ্টি করেছি। ছোটবেলায় আমি তার বিমুগ্ধ শ্রোতা ছিলাম। বাবা ছিলেন কঠোর। রুনা লায়লা যখন দমাদম মাস্ত কালান্দার গাইতেন, তখনই মাত্র ১০ মিনিট দূরদর্শন দেখতে দিতেন বাবা। তিনি কালো ব্রোকেড শাড়ি পরতেন। তার চুলগুলো ছিল অনেকটা ববকাট। তাই অসাধারণ সোনালি কানের দুল ভালোভাবে দেখা যেতো।


/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ