শুভ জন্মদিন হুমায়ুন ফরীদি

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ০১:০৮, মে ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৭, মে ২৯, ২০২০

হুমায়ুন ফরীদিতিনি আজ (২৯ মে) ৬৮ বছর ছুঁতেন; যদি না ৮ বছর আগে হুট করে চলে যেতেন। শুভ জন্মদিন, বহুমাত্রিক অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি।

১৯৫২ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন, ঢাকার নারিন্দায়।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র। সমানতালে তিন দশক দাপট ছিল এই অভিনেতার। অভিনয়ের মাধ্যমে আমৃত্যু ছড়িয়েছেন জীবনের বর্ণিল আলো। অথচ তার ব্যক্তিজীবনটা ছিল পুরোটাই সাদামাটা।
১৯৭০ সালে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্থগিত হয়ে যায় পড়াশোনা। স্বাধীনতার পর অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেধার স্বাক্ষর রাখেন প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলে। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক সম্মান পরীক্ষা পাস করেন। এমন ফল নিয়ে নিশ্চিন্ত পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন অভিনয়কে, যেখানে অনিশ্চয়তা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবন শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’,‌ ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি।




প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুলজীবনে, নাম ‘ভূত’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীর্ত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত চরিত্র কানকাটা রমজানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই।

হুমায়ুন ফরীদির প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’। যার বেশিরভাগই সুপারহিট। বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন নতুন মাত্রা। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র শুরু হয় তার। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে।
হুমায়ুন ফরীদি
হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত শেষ ছবি ‘এক জবানের জমিদার, হেরে গেলেন এবার’। ছবিটি ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন উত্তম আকাশ।

নিয়মিত টিভি অভিনয়ের পাশাপাশি হুমায়ুন ফরীদি তেমন একটা লিখতেন না। তবে কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন।
দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই ঘরে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নাম দেবযানি। পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি সবার প্রিয় অভিনেতা হিসেবে এখনও আবিষ্ট করে রেখেছেন অগুনতি দর্শক-সমালোচকদের।
যার প্রমাণ মিলেছে চলমান করোনাকালেও। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ‘অকশন ফর অ্যাকশন’-এর আয়োজনে নিলামে তোলা হয় হুমায়ুন ফরীদির ব্যবহৃত বস ব্র্যান্ডের একটি চশমা। ১ মে নিলামে তোলার পর চশমাটি বিক্রি হলো ৩ লাখ ২৫ হাজার ১২ টাকায়!
২০১২ সালে ফাল্গুনের প্রথম দিনে (১৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথিবীর সব আলো পেছনে ফেলে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ