বুধবার প্লেব্যাক সম্রাটের সাদামাটা শেষকৃত্য

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৩৬, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২০, জুলাই ১৫, ২০২০

১৫ হাজারের ওপরে গান গেয়ে চলচ্চিত্রে একচ্ছত্রভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। সারা বাংলায় তার কোটি কোটি ভক্ত। মঞ্চে উঠলে এলাকা প্রকম্পিত হতো তার কণ্ঠে। তবে শেষ বিদায়টি খুব বেশি জনপূর্ণ করা হচ্ছে না। বলা যায়, সাদামাটাভাবে প্রস্থান করছেন এই প্লেব্যাক সম্রাট। কারণটা করোনা পরিস্থিতি।

বৃষ্টির আশঙ্কায় সামিয়ানায় ঢেকে রাখা এই ক্রিসমাস ট্রি’র নিচে শায়িত হবেন এন্ড্রু কিশোর
দেশের করোনা অবস্থা ও জীবনের শেষ কয়েকটি দিন রাজশাহীতে থাকায় তার মরদেহ নেওয়া হবে না কর্মস্থল বিএফডিসি, বিটিভি, বেতার বা তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
জানা যায়, ১৫ জুলাই সকাল ৯টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ নেওয়া হবে স্থানীয় চার্চে। সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে। কিছু সময় চার্চেই রাখা হবে শিল্পীর কফিন। স্বল্প পরিসরে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের স্থানীয় সমাধিস্থলে। সেখানে এন্ড্রু কিশোরের পছন্দের একটি ক্রিসমাস ট্রি’র নিচে তাকে শায়িত করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য মোমিন বিশ্বাস রাজশাহী থেকে বলেন, ‘দাদার ইচ্ছে ছিল তাকে যেন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। কিন্তু রাজশাহী চলে আসায় তা সম্ভব হয়নি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাদাকে সম্মান জানাতে চেয়েছিল। আমরাও খুশি হয়েছিলাম। কারণ, সেখানকার শহীদ মিনার ঢাকার চেয়েও বড় এলাকায় অবস্থিত। তবে পরে তাদের প্রস্তুতি ও আগ্রহ কম হওয়ায় আমরা সেটা বাতিল করেছি। তাই শেষকৃত্য ও অন্যান্য আয়োজন সংক্ষেপে হচ্ছে।’
ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৬ জুলাই রাজশাহীতে বোনের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর।
টানা ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর থেকে রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই শিল্পী। শিল্পীর দুলাভাই ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। যদিও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার আগেই সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, এক মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর বাঁচবেন এই শিল্পী। মূলত এমন তথ্য পেয়েই দেশে ফিরে এন্ড্রু কিশোর নিজ সিদ্ধান্তে নীরবে চলে যান জন্মশহর রাজশাহীতে। সেখানেই জীবনের শেষ কয়েকটি দিন নিজের মতো কাটালেন তিনি। আর সমাহিতও হচ্ছেন নিজ স্বজনদের পাশে।
এই শিল্পীর দুই সন্তান। ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা। দুজনেই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন। তাদের জন্যই মৃত্যুর নয়দিন পর শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে।

/এম/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ