‘লাল মোরগের ঝুঁটি’কে বলি সিনেমার মুক্তিযুদ্ধ: শুকু

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৪:০০, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৬, অক্টোবর ১৪, ২০২০

২০১৫ সালে সরকারি অনুদান পেয়েছিল ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবিটি। নূরুল আলম আতিকের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় এই ছবির মাধ্যমে সিনেমার প্রযোজক হিসেবে অভিষেক হয় নাট্যকার ও নির্মাতা মাতিয়া বানু শুকুর।
সম্প্রতি গৌরীপুরে ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে। প্রযোজক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবিটি নিয়ে কথা বলেছেন মাতিয়া বানু শুকু।
ছবিটির শুটিং শেষ করতে এত লম্বা সময় লাগার কারণ প্রসঙ্গে এই প্রযোজক-নির্মাতা বলেন, ‘২০১৬ সালে শুরু করেছিলাম শুটিং, তখনই আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নতুন মাত্রার একটা ছবি নির্মাণ করার। শুটিং করতে গিয়ে টের পেলাম, যে টাকা সরকারি অনুদান হিসেবে পেয়েছি, তা দিয়ে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। তাই সেই সময় কিছুটা শুট করে, কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এরপর থেকে কো-প্রডিউসার ও স্পন্সর খুঁজতে থাকি। অনেকেই আগ্রহ দেখালেও বাস্তবে কেউ আর এগিয়ে আসে না। এই করতে করতে আমাদের কয়েকটা বছর হারিয়ে গেলো।’
শুকু আরও বলেন, ‘লগ্নিকারীরা তো আগে ভাবেন টাকা ফেরত আসবে কী করে। এ ধরনের গল্পে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আর মুক্তিযুদ্ধের গল্পে ছবি করতে গেলে তুলনামূলকভাবে টাকা কিছুটা বেশি লাগে। সেসব ভেবেই হয়তো লগ্নিকারীরা পিছিয়ে পড়েন। অথবা ভাবেন এটা সরকারের একার দায়।’
প্রায় ৫ বছর পর সম্প্রতি আবার ছবির শুটিং শুরু করলেন। সেটা কেমন করে সম্ভব হলো—এমন প্রসঙ্গে মাতিয়া বানু শুকু বলেন, ‘‘দেখুন সরকারি অনুদানের ছবি যেহেতু প্রযোজক পাই আর না পাই আমাদের এ ছবির কাজ শেষ করে জমা দিতেই হবে। সেই দায় থেকেই প্রযোজনা ব্যয় সংকুচিত করে কাজটা আবার শুরু করার প্ল্যান করি। তাই কাজটা চালিয়ে নেওয়ার জন্য নির্মাতা দল ও কলাকুশলীদের দ্বারস্থ হই। তারা প্রত্যেকেই এমন একটা সংবেদনশীল কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিকে রাজি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে আমরা একজন অর্থলগ্নিকারীও পেয়ে যাই। সহ-প্রযোজক পাওয়ার পর আমাদের টিম স্পিড আরও বেড়ে যায় এবং আমরা পুরো উদ্যমে কাজের প্ল্যান করি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শুটিংয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে আমাদের প্রযোজক যথারীতি পিছিয়ে গেলেন! কিন্তু আমরা যে জায়গায় তখন ছিলাম, সেখান থেকে আর ফেরার কোনও পথ ছিল না। তাই আমরা ঠিক করি ১৯৭১ সালের মতো করেই আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে, যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করলাম না। শুটিং শুরু হলো। শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের ডিরেকটরিয়াল টিম ও কলাকুশলীরা আত্মনিবেদন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, যে এলাকায় শুটিং করেছি, সেখানকার জনগণ এবং বন্ধুবান্ধব, কাছের মানুষ অনেকেই সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। ফলে আমরা ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’-কে বলি সিনেমার মুক্তিযুদ্ধ।’’
আতিক-শুকু দম্পতিমাতিয়া বানু শুকু জানান, এখনও ছবিটির দুটি দরকারি দৃশ্যের শুটিং বাকি আছে। এটার জন্য দরকার একটা রানওয়ে। তবে সেটি পাওয়ার আগেই শুরু হয়েছে সম্পাদনার কাজ। যদিও শেষের পুরো কাজটি শেষ করতে প্রয়োজন আরও অর্থের। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সেটিও নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। এগিয়ে আসবেন কেউ না কেউ।
ছবিটি মুক্তি দেওয়া প্রসঙ্গে এর নির্মাতা নুরুল আলম আতিক জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ দর্শকদের দেখাতে চান। আতিক-শুকু দম্পতির ভাষ্যে, ‘আমাদের বিশ্বাস জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে লাল মোরগ ডেকে উঠবেই।’
পাণ্ডুলিপি কারখানার ব্যানারে এই ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, নায়লা হাসান, আহমেদ রুবেল, শিল্পী সরকার অপু, অশোক ব্যাপারী, আশিষ খন্দকার, জ্যোতিকা জ্যোতি, দোয়েল, স্বাগতা, আশনা হাবিব ভাবনা, জয়রাজ, শাহজাহান সম্রাট, খলিলুর রহমান কাদরী, অনন্ত এবং কুষ্টিয়া ও গৌরীপুরের জনগণ।

/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ