‘আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি, আর আমার ছেলে তার বাবাকে হারিয়েছে’, কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্না সামলাতে পারছিলেন না জোশনা চোংথাম। রবিবার রাতে দক্ষিণ দিল্লির নিজ বাসার সামনে শব্দ করার প্রতিবাদ করায় একদল যুবকের হামলায় প্রাণ হারান তার স্বামী এবং মণিপুরের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিং।
মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর টিকেন্দ্রজিৎ হাউসে বিক্রমের ভাই ও এক স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন জোশনা। নিচু ও মৃদু কণ্ঠে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ার সময় বারবার চোখ মুছছিলেন তিনি। সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জোশনা জানান, কিলোকরি গ্রামের তিন তলায় তাদের বাসার দিকে ধাওয়া করে আটজন লোক তার স্বামীকে মারধর করে পালিয়ে যায়।
মারধরের পর বিক্রমের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে দ্রুত হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জোশনা বলেন, তার রক্তচাপ অনেক কমে গিয়েছিল... সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। এই ঘটনার পর নিরাপত্তার আশঙ্কায় পরিবারটি আর সেই বাসায় অবস্থান করছে না।
সংকটকালে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জোশনা আশা প্রকাশ করেন, যেন অন্য কোনও পরিবারকে এমন নির্মম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয় এবং তারা যেন সঠিক বিচার পান। বক্তব্য শেষে তিনি হাত জোড় করে কৃতজ্ঞতা জানান।
শোকের মুহূর্তে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবারই শেষকৃত্যের জন্য বিক্রমের মরদেহ বিমানে মণিপুরে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের মণিপুরের সংগীত অঙ্গনে বিক্রম সিং ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। রাজ্যে রক মিউজিক আন্দোলনের অন্যতম পথপ্রদর্শক ধরা হতো তাকে। ১৯৮০-র দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফিনিক্স’-এর লিড গিটারিস্ট ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দিল্লিতে এক সংগীতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে অনেকেই বর্ণবাদী সহিংসতার উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজধানীতে এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারটি বর্ণবাদী মন্তব্য কিংবা এটি বর্ণবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ছিল বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেনি।

মুসলিম হওয়ায় দিলীপ কুমারকে ‘হে রাম’ বলতে বাধা দেয় সেন্সর বোর্ড, মধ্যস্থতা করেন নেহেরু
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে ভারত সরকারের বিশেষ উদ্যোগ, আসছে রুপার স্মারক মুদ্রা




