স্বাধীনতার আগে ও পরবর্তী সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ এবং সেন্সরশিপের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন প্রখ্যাত নির্মাতা তিগমাংশু ধুলিয়া। দ্য ওয়ার-এর আয়োজনে স্টেট অব মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজ প্রশাসন থেকে শুরু করে সেন্সর বোর্ডের কঠোর আইনি বাধা পার হতে হয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের।
তিগমাংশু জানান, ব্রিটিশ শাসনকালে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা না দিয়ে রূপকের আশ্রয়ে সিনেমা বানাতেন নির্মাতারা। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৪৪ সালের ‘চল চল রে নওজোয়ান’ ও ১৯৪৩ সালের অশোক কুমার অভিনীত ‘কিসমত’ সিনেমার কথা উল্লেখ করেন। ‘কিসমত’ সিনেমার দেশাত্মবোধক গান ‘দূর হটো এ দুনিয়া ওয়ালো, হিন্দুস্তান হামারা হে’, প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশরা ভেবেছিল গানটি জাপানিদের বিরুদ্ধে বানানো, কারণ জাপান পূর্ব দিক থেকে বার্মায় হামলা করেছিল। তারা বুঝতে পারেনি যে গানটি মূলত তাদের উদ্দেশ্য করেই লেখা হয়েছিল।’
স্বাধীনতার পরও রাজকীয় প্রশাসন ও শিল্পীদের সম্পর্কের এক অদ্ভুত রূপের কথা জানান এই পরিচালক। ১৯৫০-এর দশকে ‘হালচাল’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের (ইপটা) সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হন অভিনেতা বলরাজ সাহানি। সিনেমায় তিনি একজন জেলারের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন। সাহানির অনুপস্থিতিতে প্রযোজক কে আসিফ বিশাল লোকসানের মুখে পড়লে তিনি বোম্বাইয়ের গভর্নরের দ্বারস্থ হন। তিগমাংশু ধুলিয়া সে সময়ের পরিবেশের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘সরকারের উদারতা দেখুন, তারা বলরাজ সাহানিকে সকাল ৯টার শিফটে কাজ করার অনুমতি দেয়। তিনি সকালে জেল থেকে বের হয়ে সেটে যেতেন, জেলারের পোশাক পরে অভিনয় করতেন এবং সন্ধ্যায় আবার জেলে ফিরে আসতেন। আমরা এমন এক সমাজে বাস করতাম।’
পরবর্তীকালে দিলীপ কুমারের ‘গঙ্গা যমুনা’ সিনেমা নিয়েও সেন্সর বোর্ড আপত্তি তোলে। সিনেমায় দিলীপ কুমারের চরিত্রের মৃত্যুর মুহূর্তে ‘হে রাম’ সংলাপ বলা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তিগমাংশু বলেন, সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি আটকে দেয় এবং একটি খুব অদ্ভুত কারণ দেখায়। তারা বলেছিল, আপনি কীভাবে হে রাম বলতে পারেন? আপনি তো একজন মুসলিম। ছবির নির্মাতারা যুক্তি দিয়েছিলেন যে চরিত্রটি গঙ্গা নামের এক হিন্দু ব্যক্তির, তাই সে ‘হে রাম’ বলতেই পারে। তবে সেন্সর বোর্ড তা মানতে নারাজ ছিল।
অবশেষে বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু পর্যন্ত গড়ায়। তিনি সিনেমাটি দেখে ছাড়পত্র দেন। তবে শুধু দিলীপ কুমারের সিনেমা অনুমোদন পেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠতে পারে, এমন আশঙ্কায় সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা অন্যান্য সব সিনেমাও একই সঙ্গে ছাড়পত্র পায় বলে জানান ধুলিয়া।
উল্লেখ্য, দিলীপ কুমারের আসল নাম মোহাম্মদ ইউসুফ খান। চলচ্চিত্রে তিনি দিলীপ কুমার নামেই অভিনয় করেন।
নিজের ২০১৭ সালের ‘রাগ দেশ’ সিনেমার অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই নির্মাতা বলেন, রাজ্যসভা টিভির প্রযোজনায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ)-এর ওপর তৈরি করা সিনেমাটি দেখে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা তাকে জড়িয়ে ধরে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন এবং একটিও কাট ছাঁট ছাড়াই ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই সিনেমাটির মুক্তি আটকে দেওয়া হয় এবং ৬-৭ বছর পর বহু অনুনয়-বিনয় করে তিনি নিজের বকেয়া টাকা পান। দূরদর্শনে প্রচার না করে তাড়াহুড়ো করে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল সিনেমাটি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

রুশ হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের বক্সিং ক্লাবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, জানতেন না মালিক
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে ভারত সরকারের বিশেষ উদ্যোগ, আসছে রুপার স্মারক মুদ্রা
ভারতে ঝড় তুলেছে যে চীনা রোমান্টিক সি-ড্রামা




