বলা হয়, ৪৭ এর দেশভাগে যে নির্মাতা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি ঋত্বিক কুমার ঘটক। তার প্রায় সিনেমাতেই উঠে এসেছে দেশভাগের হাহাকার। তিনি বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে কিংবদন্তি নির্মাতা হিসেবেই সুপরিচিত হয়ে আছেন।
পদ্মশ্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত এই প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতাকে জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৫-এ বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে।
পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা এবং নাট্যকার হিসেবে ঋত্বিকের অবদান বিশ্ব চলচ্চিত্রে ছাপ ফেলেছে অবর্ণনীয়। সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহা এবং মৃণাল সেনের মতো বিশিষ্ট সমসাময়িক বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পাশাপাশি, ঋত্বিকের সিনেমা মূলত সামাজিক বাস্তবতা, দেশভাগ এবং নারীবাদের সূক্ষ্ম চিত্রায়নের জন্য স্মরণীয়।
তার ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘সুবর্ণরেখা’ এবং ‘কোমল গান্ধার’র মতো ছবিগুলি এখনও মাস্টারপিস হিসেবে সমাদৃত।
শ্রদ্ধাঞ্জলি সম্পর্কে বলতে গিয়ে, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক মিতু ভৌমিক বলেছেন, ‘ঋত্বিক ঘটক ছিলেন তার সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা একজন দূরদর্শী নির্মাতা। আমরা বিশ্বাস করি, ঋত্বিক ঘটকের মতো আইকনদের প্রতি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। এই শতবর্ষ উদযাপন কেবল একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, এটি আমাদের কী ধরণের গল্প বলতে হবে তার একটি স্মারক।’
বলা প্রয়োজন, পদ্মশ্রী এবং একাধিক জাতীয় পুরষ্কারে সম্মানিত ঋত্বিক ঘটককে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭৪ সালে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’- সেরা গল্পের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের রজত কমল পুরস্কার এবং ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবির জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে সেরা পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
সূত্র: এনডিটিভি





