অভিনেত্রী তানজিন তিশার সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর অভিনেত্রীর বরাবর পাঠানো চিঠিতে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
তানজিন তিশার পাশাপাশি সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈর।
সদস্যপদ স্থগিতের কারণ
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এর আগে দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল সংগঠনটি। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
অভিনয় শিল্পী সংঘ জানায়, বাংলাদেশের সালিশ বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার আগে
অভিনয়শিল্পী সংঘের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য একটি সালিশ কমিটি আছে যা সার্বভৌম এবং স্বাধীন। এই সালিশ কমিটি উদ্ভূত ঘটনার পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকেই সালিশের জন্য ডাকা হয়। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি হচ্ছে তারা মাফ চেয়ে বিবৃতি দিবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে দুটি সিদ্ধান্তের কোনটাই তারা মানেননি। তাদেরকে পরপর দুটি চিঠি দেওয়ার পরও তারা চিঠির কোনও সদুত্তর দেননি। এই চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরবর্তীতে তাদের ফোনও করা হয়, কিন্তু ফোনের কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় দীর্ঘ বিরতির পর সালিশ কমিটি বাধ্য হয়ে ইসি কমিটিকে তাদের সদস্যপদ বাতিলের জন্য সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ইসি কমিটি সভায় এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
তিশা যা জানালেন
শুক্রবার সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে আসেন তানজিন তিশা। সেখানে তিনি অভিনয় শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠকের কথা জানান।
তিশা বলেন, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনও কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’
ঘটনার সূত্রপাত
গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলেন সামিয়া।
সামিয়ার অভিযোগ ছিল, নাটকের একটি দৃশ্যে তার তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা ছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেছিলেন; কিন্তু এরপর তিশা তাকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তার চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন সামিয়া।
শুধু ওই দিনের ঘটনাই নয়, এর আগেও তিশার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন সামিয়া।
অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিশা
সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তার দাবি ছিল, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, সবই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে আঘাত করেননি তিনি।
তখন তিশা জানিয়েছিলেন, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণে অন্যকে আঘাত করা বা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। তাই অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যা ছিল, সেটিই করেছেন তিনি।
শাহরুখের ‘কিং’ ছবির গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক