একসময় সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল এমন এলাকাগুলোতে ৫০টিরও বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিংসংঘ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এর একজন বিশেষ দূত জ্যান কুবিস বলছেন, আইএসের কাছে থেকে সরকারী বাহিনীর পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলোতে থাকা ওইসব গণকবর আইএসের নৃশংসতারই প্রমাণ। তিনি জানিয়েছেন, এসব এলাকার মধ্যে কেবল রামাদিতেই অন্তত ৪০টি দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। সশস্ত্র ওই জঙ্গি সংগঠনকে রুখতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, উগ্রপন্থার মূল কারণ শনাক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন কুবিস। আইএসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের ওই বিশেষ দূত জ্যান কুবিস জানান, সর্বশেষ গত এপ্রিলে ইরাকের রামাদি শহরে গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মে মাস থেকে রামাদির দখল নেয় আইএস। একই বছরের ডিসেম্বরে আইএসের কাছ থেকে রামাদির কিছু অংশের পুনর্দখল নেয় ইরাকি সেনাবাহিনী। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ গোটা রামাদি দখলে নেওয়ার দাবি করে তারা।
কেবল রামাদিই নয়, একসময় আইএসের দখলে থাকা সিনজার, আনবার ও তিকরিতের কাছেও গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সিরিয়ার কিছু এলাকায়ও গণকবরের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কুবিস।
কুবিস বলেন, ‘আইএসের সদস্যরা ইরাকিদের ওপর যে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালাচ্ছে আমি তার কঠোর নিন্দা জানাই। এ ধরনের অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এমনকি গণহত্যার আওতায় এনে বিচার করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আইএসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার পরও সশস্ত্র সংগঠনটি এখনও শত্রু হিসেবে অনড় রয়েছে। তারা তাদের কৌশল ও হামলার ধরনে পরিবর্তন নিয়ে আসছে।’
কুবিস মনে করেন সামরিক বাহিনী দিয়ে সশস্ত্র এ সংগঠনটিকে পরাজিত করা যাবে না। তাই সহিংস উগ্রপন্থার মূল কারণ চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/বিএ/








