আবারও একই স্টাইলে সাইবার হামলা। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর এবারের শিকার অন্য একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। নতুন এই সাইবার হামলার খবর দিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক আন্ত:ব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক সংগঠন সুইফট। তবে হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকটির নাম জানানো হয়নি। এদিকে সুইফট সিস্টেম হ্যাক হয়নি বলে এবার দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্বয়ং।
বৃহস্পতিবার সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা টেরানকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো করেই দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাংকে ম্যালওয়ার হামলা হয়েছে। তিনি জানান, সেটি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে ওই ব্যাংক থেকে আদৌ কোনও টাকা চুরি হয়েছে কিনা কিংবা চুরি হয়ে থাকলে সে টাকার পরিমাণ কত তা জানাতে পারেননি নাতাশা।
এক বিবৃতিতে সুইফট বলেছে, ‘সাইবার হামলার শিকার দ্বিতীয় ব্যাংকটির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, সুনিদির্ষ্ট কাজ ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে হ্যাকাররা খুবই ভালো ধারণা রাখে। ব্যাংকের ভেতরের লোকও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আবার বাইরের হ্যাকারদের ও ব্যাংকের ভেতরের লোক একত্রিত হয়েও সাইবার ডাকাতি করে থাকতে পারে।’
বৈশ্বিকভাবে ১১ হাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভ্যন্তরীণ লেনদেনে সহায়তারী প্রতিষ্ঠান সুইফট আরও জানিয়েছে, ‘ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতি কোনও একক ঘটনা নয় বরং ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করে হামলাকারীদের বিস্তৃত পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র। দ্বিতীয় ব্যাংকে হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে সে ধারণা জোরালো হয়েছে।’
দ্বিতীয় ঘটনাতেও একটি ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইফট, যার নাম তারা বলেছে ‘ট্রোজান পিডিএফ রিডার’। এই ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে সার্ভারে রাখা অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের তথ্যে পরিবর্তন আনা, এমনকি সুইফট থেকে আসা বার্তা বদলে দিয়ে ভুয়া বার্তা প্রিন্ট করারও সুযোগ রাখা হয়েছে বলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই সতর্ক করেছিল ব্রিটিশ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিএই। গবেষকদের আশঙ্কা ছিল, সামান্য বদলে নিয়ে ওই ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে বহু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই সাইবার হামলার চেষ্টা হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে সাইবার ডাকাতি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে এতদিন সুইফট কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসলেও দ্বিতীয় ব্যাংকে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক সংগঠনটির নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জোরালো হয়ে উঠেছে। তবে সুইফট কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মূল যে মেসেজিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, তা ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সে ধারাবাহিকতায় এবার সুইফটের প্রধান নির্বাহী গটফ্রাইড লিব্রান্ডিটও দাবি করেছেন সুইফটের নেটওয়ার্ক হ্যাক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি হয়নি।
ফ্রাঙ্কফুর্টে এক কনফারেন্সে গটফ্রাইড বলেন, ‘আমাদের নেটওয়ার্ক সিস্টেম বিঘ্নিত হয়নি। আমাদের ধারণামতে এটি গ্রাহকের জালিয়াতি। আমি মনে করি না এটিই প্রথম ঘটনা। আবার এও মনে করি না যে এটিই শেষ ঘটনা।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
/এফইউ/বিএ/








