নাইজেরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের কাছ থেকে পালিয়ে আসা ছাত্রী আমিনা আলি দারশা কাইকি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে অপহরণকৃত ২১৯ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকীরা সামাসিয়ার জঙ্গলে রয়েছেন। চিবকের গোত্র প্রধানকে এসব কথা জানিয়েছেন আমিনা। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবরটি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে ইসলামি সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারাম পূর্ব চিবকের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২১৯ ছাত্রীকে অপহরণ করে। মঙ্গলবার সেই ছাত্রীদের একজন আমিনা আলি দারশা কাইকিকে একটি শিশুকন্যাসহ ক্যামেরুন সীমান্তের নিকটবর্তী সামবিসা অরণ্য থেকে উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত নজরদারির বাহিনী সিভিলিয়ান টাস্ক ফোর্স তাকে উদ্ধার করে। আমিনাকে তার চার মাসের শিশু সন্তানসহ বরনো রাজ্যের রাজধানী আবুজায় পাঠিয়ে দেয় নাইজেরিয়ান এয়ারফোর্স।
চিবকের গোত্র প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমিনার কাছে তারা জানতে পেরেছেন যে অপহৃতদের মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি সবাই সামবিসার ওই জঙ্গলেই রয়েছে।
আমিনা জানান, অপহরণের সময় বোকো হারামের সদস্যরা মোট ২৭৬ জন ছাত্রীকে লরিতে তুলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন লরি থেকে লাফিয়ে পড়ে রাস্তার পাশের ঝোপে আত্মগোপন করে। আমিনার দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে চিবকের গোত্র প্রধান আরও জানান, বোকো হারাম নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে এক আক্রমণ চালানো হলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে আমিনা।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন সেই আমিনা
আমিনার ভাই মাইনা আলি জানান, আমিনা প্রথমে উদ্ধারকারীদের দেখেও ভয় পেয়ে লুকিয়ে যায়। পরে ওই উদ্ধারকারীরাই তাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে অপহৃত হওয়া ছাত্রীদের মধ্যে আমিনাই প্রথম যাকে উদ্ধার করা গিয়েছে। এই ছাত্রীদের অভিভাবকরা অপহরণের পর থেকেই ‘ব্রিং ব্যাক আওয়ার গার্লস’ প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান
/ইউআর/বিএ/








