প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে মিসরীয় সেনাবাহিনী। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষও খবরটি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও কারপাথোস দ্বীপ এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। পরে অবশ্য খবরটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। শুক্রবার মিসরের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরের আলেক্সান্দ্রিয়া উপকূল থেকে ২৯০ কিলোমিটার দূরে সন্ধান মিলেছে ধ্বংসাবশেষের। যাত্রীদের কিছু মালামালও সাগরে ভাসতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এখনও মিসরীয় কর্তৃপক্ষের দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্যারিস থেকে বুধবার রাতে ছেড়ে যাওয়া ইজিপ্ট এয়ারের এমএস ৮০৪ ফ্লাইটটি কায়রোর সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটি ফ্রান্সের শার্ল দা গল বিমানবন্দর ছাড়ে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৯ মিনিটে। কায়রোর স্থানীয় সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটির অবতরণ করার কথা ছিল। এয়ার ইজিপ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটি ৩৭ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছিল। ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চল দিয়ে ওড়ার সময় এটি নিখোঁজ হয়। বিমানটিতে তিনটি শিশুসহ ৬৬ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন মিসরীয়, ১৫ জন ফরাসি, একজন ব্রিটিশ, দুজন ইরাকি ছাড়াও কানাডা, কুয়েত, বেলজিয়াম, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, সুদান, শাদ ও পর্তুগালের নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে বিমানটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটির চেয়ে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কাকে জোরালো করে দেখছে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ।
বিমানটি যখন নিখোঁজ হয় তখন আবহাওয়া ভালো ছিল। গ্রিক বিমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলছে,কিয়া দ্বীপ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বিমানটির পাইলটের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তবে পাইলট সে সময় কোনও ধরনের সমস্যার কথা জানাননি। এদিকে বিমানটি মিসরের বিমান পরিবহন মন্ত্রী শেরিফ ফাথি এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংযোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কায়রোতে মন্ত্রী শেরিফ ফাথি বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি ভালো করে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার সম্ভাবনার চেয়ে বিমানটির সঙ্গে অন্য কোনও কিছু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেটা সন্ত্রাসী হামলাও হতে পারে। এই বিমান বিধ্বংসের কারণ যদি সন্ত্রাসী তৎপরতা হয়, তাহলে ফ্রান্সকে নিরাপত্তাজনিত ফাঁকফোঁকরের জন্য দায়ী করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি এটা প্রমাণিত হয় যে এই ঘটনাটি ছিল সন্ত্রাসী কাজ, তা হলে আমাদেরকে এটা জানতে এবং মানতে হবে যে এই বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ফ্রান্স থেকে, মিসর থেকে নয়।’
এর আগে অক্টোবরে সিনাইয়ের শার্ম আল-শাইখ থেকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গ যাওয়ার পথে একটি রুশ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ২২৪ আরোহীর সবাই নিহত হন। মস্কোর পক্ষ থেকে পরে বলা হয়,বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই বিমান বিধ্বস্ত করা হয়। সেসময় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস সংশ্লিষ্ট সিনাইভিত্তিক একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বকিার করেছিল।
এদিকে ফ্রান্স বলছে তারা আগে থেকেই কোনও কিছু বলতে রাজি নয়। তবে কোনও ধরনের সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন বিমানটির সঙ্গে কী হয়েছে তা উদঘাটন করা তাদের দায়িত্ব। এরইমধ্যে মিসরীয় তদন্ত দলের সঙ্গে কাজ করতে তিনজন তদন্তকারী ও একজন প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে পাঠিয়েছে ফ্রান্স।
গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পানোস কাম্মেনোস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমানটি সাগরে পড়ার আগে আকাশে দুইবার চক্কর খেয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন।তিনি বলেন, ফ্লাইটএমএস৮০৪ মিসরের আকাশসীমায় প্রবেশ পরপরই ৯০ ডিগ্রি বামে এবং ৩৬০ ডিগ্রি ডানে চক্কর খায়। এরপর বিমানটি ৩৭ হাজার ফুট থেকে নেমে ১৫ হাজার ফুটে উড়তে থাকে এবং রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
এয়ার ইজিপ্টের নিখোঁজ হওয়া বিমানটি সর্বশেষ ফ্রান্সের শার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে ছেড়েছিল। আর তাই বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে ফ্রান্স। এছাড়া বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল সেগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ওই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরিত্রিয়া ও তিউনিসিয়ায়ও অবতরণ করেছিল বিমানটি। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
/এফইউ/








