আইএসের দেওয়া আগুনে পুড়তে পুড়তেই শেষবারের মতো শিশুটি বলল, 'ওদের ক্ষমা কর'

বিদেশ ডেস্ক
২০ মে ২০১৬, ১৮:৫২আপডেট : ২০ মে ২০১৬, ১৮:৫৩

মানুষের ইতিহাসে ক্ষমা আর মহত্ত্বের উজ্জ্বল নিদর্শন দেখিয়েছেন যারা, তাদের কাতারে যেন আরেকটি নাম যুক্ত হলো। ইরাকের ১২ বছর বয়সী এক শিশু আইএসের লাগিয়ে দেওয়া আগুনে পুড়তে পুড়তেই শেষবারের মতো বলে উঠেছিল, ‘ওদের ক্ষমা কর’। এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

উত্তর ইরাকের মসুল শহরের ওই ঘরটিতে আইএসের আগুন লাগানোর বিষয়টি বর্ণনা করেছেন নিহত শিশুটির মা। তিনি জানান, ভিন্নধর্মের মানুষ হওয়ায় তাদের ওপর আইএস যে কর ধার্য করেছে সেটা  দিতে ব্যর্থ হওয়াতেই তাদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ইরাকে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অমুসলিমদের কাছ থেকে জিজিয়া কর নামে এক ধরনের কর সংগ্রহ করা হয়। এটা জঙ্গিদের আয়ের একটা বড় উৎস।

আইএস-এর তাণ্ডব থেকে বাঁচতে ইরাকের মসুল নগরী ছেড়েছেন বহু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

ওই নারী জানান,  বিদেশি আইএস সদস্যরা তার ঘরে এসে জিজিয়া প্রদান করতে বলে। তারা বলেছিল, ‘হয় এখান থেকে চলে যাও অথবা জিজিয়া কর পরিশোধ কর।’

মানবাধিকার আইনজীবী জ্যাকুলিন ইসাক বলেন, নিহত শিশুটির মা আইএস সদস্যদের কাছ থেকে কয়েক সেকেন্ড সময় চেয়েছিলেন। কারণ ওই সময় তার কন্যা গোসলে ছিল। কিন্তু আইএস সদস্যরা অপেক্ষা করতে রাজি হয়নি এবং তারা ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অগ্নিসংযোগের পর মা ও কন্যা দুজনই ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা করেন মা। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। কারণ তার শরীরের অনেকটা অংশই পুড়ে গেছে। মায়ের বাহুতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি। তবে মৃত্যুর আগে শিশুটির শেষ উচ্চারণ ছিল, ‘তাদের ক্ষমা কর’।

গত সপ্তাহে বাগদাদের একজন শীর্ষ খ্রিস্ট ধর্মগুরু বলেছিলেন, আইএসের হুমকির মুখে দেশটির সুপ্রাচীন খ্রিস্টান সম্প্রদায় পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

/এমপি/

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম